৪০ হাজার মানুষের কাছে ত্রাণ নিয়ে মেয়র আতিক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় বসবাসকারী ৪০ হাজার মানুষের কাছে ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। খেটে খাওয়া এই মানুষদের তালিকা তৈরি করে তাদের ঘরে ঘরে গিয়ে খাবার পৌঁছে দিতে তিনি নিয়েছেনে অভিনব এক উদ্যোগ।

ঢাকায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার মানুষের কাছে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেয়া হয়েছে বলে জানায় মেয়র আতিকের অফিস। জানা যায়, ভিড় না করে এই মানুষগুলোর কাছে খাবার পৌঁছে দিতে প্রাথমিকভাবে আগে তাদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে তালিকা তৈরি করা হয়। এ সময় তাদের পেশা, পরিবারের সদস্য সংখ্যাসহ তাদের কি পরিমাণে সহায়তা প্রয়োজন তার একটা হিসেব করা হয়। তারপর আমাদের এই কার্যক্রমে সহায়তা করে আসা বিডি ক্লিনের সদস্যরা নির্দিষ্ট বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করে আসছেন। যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ। আমরা আগামীকাল থেকে দৈনিক ১ হাজার মানুষের কাছে এই সহায়তা পৌঁছে দেব। আমরা এই ৪০ হাজার মানুষের তালিকা সরকারকে আলাদা করে প্রদান করব, যেনো একই মানুষের কাছে ত্রাণ না গিয়ে সকলের কাছে সমানভাবে পৌঁছায়।

৪০ হাজারেরও বেশি হতদরিদ্রের কাছে খাবার পৌঁছে দেয়ার এই প্রস্তুতিতে প্রতিটি পরিবারের জন্য তৈরি প্যাকেটে থাকছে ৫ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার তেল, ১ কেজি আলু এবং ১টি সাবান। পরিবারের সদস্য সংখ্যা বিবেচনায় এনে এর পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে।

ত্রাণ কার্যক্রম প্রসঙ্গে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে যে অবস্থার মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি, তা যে আরো বেশ কিছুদিন চলবে সেটা আমরা জানি। এই পরিস্থিতিতে মানুষের কী প্রয়োজন তাও জানি আমি। এখন সময় সবাইকে হাতে হাত মিলিয়ে চলার। সবাই যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসলে, এই পরিস্থিতি মোকাবেলা সম্ভব। সকলকে সরকার প্রদত্ত নির্দেশাবলী মেনে চলতে হবে। লকডাউন কার্যকর হলে এই দুঃসময় দ্রুত পার করতে পারব আমরা।

খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়ার এই কার্যক্রম পরিচালনা করা ‌'বিডি ক্লিন'-এর প্রধান সমন্বয়ক ফরিদ উদ্দিন জানান, ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেয়া আমাদের কর্মী এবং ত্রাণ গ্রহণ করা মানুষগুলো উভয়ের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় এনে খাবার পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনাটি সাজানো হয়েছে। কোন ভিড় নয়, বরং নির্দিষ্ট পরিবারের কাছে আমাদের ২ জন কর্মী ত্রাণ পৌঁছে দেবেন। সেই লক্ষ্যে এরই মধ্যে আমাদের এই কর্মী বাহিনী তালিকা তৈরি করে ফেলেছে। আশা করছি সময় মত এই পরিবারগুলোর কাছে খাবার পৌঁছে দিতে পারব আমরা।

ইত্তেফাক/আরএ