ফতুল্লায় আম চুরির দায়ে কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ

ফতুল্লায় এক কিশোরকে আম চুরির অপরাধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শুক্রবার কিশোরটি মারা যায়। নিহত কিশোর (বাঁধন) ফতুল্লার কাঁশিপুর ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন এলাকার জামাল মিয়ার ছেলে। এর আগে নিহত বাঁধন নারায়ণগঞ্জের খানপুরে ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ছিলেন। চিকিত্সাধীন থাকাকালীন কিশোরের শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি না ঘটলে কর্তব্যরত চিকিত্সক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। গত মঙ্গলবার ফতুল্লার কাঁশিপুর খিল মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, এ ঘটনায় একটি প্রভাবশালী মহল নিহত কিশোরের পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখানোর কারণে স্থানীয় থানার পুলিশকে অবহিত না করেই শহরের পাইকপাড়া কবরস্থানে লাশ দাফন করতে বাধ্য হয়। নিহতের বাবা জামাল মিয়া জানান, নিহত কিশোর তার একমাত্র ছেলে। স্থানীয় রিকশার গ্যারেজ থেকে অটোরিকশা ভাড়া করে চালাত। কিশোর বাঁধনের উপার্জনের অর্থেই সংসার পরিচালনা করা হতো। গত মঙ্গলবার রাতে কাঁশিপুর খিল মার্কেট দরগাবাড়ি এলাকার নাজমুল ও জুলেখা দম্পতি আম চুরির অপরাধে বাঁধনকে বেধড়ক মারধর করে। মারধরের কারণে গুরুতর আহত হয় বাঁধন। এর পরদিন স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখান থেকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুই দিন চিকিত্সাসেবা প্রদানের পর বাঁধনের শরীরের কোনো উন্নতি না হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে নেওয়ার পথেই বাঁধন মারা যায়। জামাল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।’ এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি এখনো অবগত হইনি। এখনো কেউ থানায় আমাকে অবগত করেনি। যেহেতু সাংবাদিকদের মাধ্যমে তথ্য পেয়েছি, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।’