গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টায় শেষ হয়েছে প্রচার-প্রচারণার আনুষ্ঠিকতা। ফলে গত বৃহস্পতিবার খুলনার ৬টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন। একটি ভোটের জন্য তারা পাড়া-মহল্লায় ছুটে বেড়িয়েছেন। আর সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নির্বাচন কমিশন।
খুলনা-২ আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করতে গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইভিএমের সব কেন্দ্রে একযোগে অনুশীলন কার্যক্রম চলে।
খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ হেলাল হোসেন ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার সৌমেন বিশ্বাস জানান, নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা পূর্বে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টায় শেষ হয়েছে প্রার্থীদের প্রচারণা।
শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের শেষ মুহূর্তের প্রচারণা
খুলনা-২ আসনে মহাজোট মনোনীত প্রার্থী শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল গত বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেন। বিকালে শহীদ হাদিস পার্কে সদর থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি বক্তৃতা করেন। তিনি বলেন, একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ দুর্নীতিমুক্ত দেশপ্রেমিক গণমুখী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ অব্যাহত রাখা হবে। নিশ্চিত করা হবে প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং সেবা পরায়ণতা। প্রশাসনের দায়িত্ব হবে নির্ধারিত নীতিমালা ও নির্বাহী নির্দেশনাবলী বাস্তবায়ন করা হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং সর্বপ্রকার হয়রানির অবসান ঘটানোর কাজ অব্যাহত থাকবে। একই সাথে নিয়মানুবর্তী এবং জনগণের সেবক হিসেবে প্রশাসনকে শক্তিশালী করে সমাজ থেকে দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদকে সমূলে উচ্ছেদ করা হবে।
এছাড়াও খুলনা-১, ৩, ৪, ৫ ও ৬ আসনের প্রার্থীরা সারাদিন প্রচার-প্রচারণা করেন।
প্রচারণার শেষ দিনে ব্যস্ততম সময় পার করলেন মঞ্জু
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণার শেষদিনে গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন খুলনা-২ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত বিএনপি’র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সকাল থেকেই তিনি নগরীর বিভিন্ন ব্যস্ততম এলাকায় যান এবং সেখানকার অধিবাসী ভোটারদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি ভোটারদের হাতে ধানের শীষের লিফলেট তুলে দেন এবং ভোট প্রার্থনা করেন।
তিনি রেলওয়ে স্কুলের সামনে থেকে গণসংযোগ শুরু করে রেলওয়ে কলোনী ও রেলওয়ে মার্কেট এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেন। পরে রূপসা স্ট্যান্ড রোডের স’মিল এলাকায় যান এবং সেখানকার মালিক শ্রমিকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে নগরীর ব্যস্ততম বিপণি বিতান এলাকা ধর্মসভা মোড়, জলিল টাওয়ার, আক্তার চেম্বার, এশা চেম্বার, ডিলাক্স মার্কেট, আর্কেডিয়া মার্কেট হয়ে ডাকবাংলা মোড় এলাকায় গণসংযোগ করেন। তিনি এ সব বিপণী বিতানের মালিক, কর্মচারী এবং আহত ক্রেতাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের হাতে ধানের শীষের লিফলেট তুলে দেন। বিএনপির পক্ষ থেকে শুক্রবার দোয়া দিবস পালনের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।