নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে নজরদারি জরুরি

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা চালু রাখা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। যথেষ্ট মজুত থাকার কথা বলা হলেও কার্যত সরবরাহ কম থাকার কারণে ইতিমধ্যে ঢাকার বাজারেও পণ্যমূল্য বেড়ে গেছে। পণ্য স্থানান্তর প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার অজুহাতে খুচরা দোকানিরাও দাম বাড়াচ্ছে। যা এই দুঃসময়ে কাম্য হতে পারে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকায় প্রায় সব পণ্যের দামই বাড়তির দিকে। অথচ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পচে যাচ্ছে। বিশেষত কৃষিপণ্য পচনশীল হওয়ায় ক্রেতার অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রায় বিনা মূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে গরিব চাষিদর। এ অবস্থায় সারাদেশব্যাপী না হলেও যেসব অঞ্চলে যে পণ্য উত্পাদন বেশি হচ্ছে তার আশপাশের এলাকায় পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা চালু রাখা প্রয়োজন। কেননা, করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহতার দিকে যাচ্ছে। বাড়ছে লকডাউনের এলাকা এবং সময়ও। ধারণা করা যাচ্ছে সামনের দিনগুলোতে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা দুরূহ হতে পারে। তাতে কৃষক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনি ঢাকার মানুষের কাছেও সরবরাহ ঘাটতির কারণে পণ্য প্রাপ্তি সুলভ হবে না। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় পণ্য সরবরাহ কমে যাচ্ছে মর্মে সংবাদ এসেছে। বন্দর থেকেও পণ্য চালান খালাসে বিঘ্ন ঘটছে। এ অবস্থা দীর্ঘায়িত হবে এমনটি সহজেই অনুমেয়। ফলে, বড়ো ধরনের একটা সংকটময় পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন অনেকেই। এমনিতেই ঘরবন্দি মানুষগুলো মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। অনেকেরই ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ। অনেকে বেকার হয়ে পড়েছেন। বেশির ভাগ লোকই ভবিষ্যতের রোজগার নিয়ে উত্কণ্ঠায় আছেন। এ ধরনের নাজুক পরিস্থিতিতে নিত্যপণ্যের সুলভ প্রাপ্তি না ঘটলে মানসিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, এখনি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি না নিলে তা সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হবে। কারো কারো মতে, মানুষকে প্রয়োজনীয় খাবারের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে তা কঠিন। তাই যে কোনো ধরনের বিরূপ পরিস্থিতি এড়াতে এখনো বিভিন্ন জেলা থেকে উদ্বৃত্ত পণ্য অন্য জেলায় স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। চাহিদার নিরীখে আগামী কয়েক মাসের জন্য পণ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং মূল্য সহনশীল রাখা এই মুহূর্তে বড়ো করণীয় বলেও মনে করছেন তারা। যদিও বলা হচ্ছে খাদ্যের যথেস্ট মজুত রয়েছে। কিন্তু সুযোগ সন্ধানীরা বরাবরই তত্পর থাকে। তাদের অপতত্পরতায় যাতে পরিস্থিতি খারাপের দিকে না যায়, সেদিকে অবশ্যই নজর দিতে হবে।