করোনা উপসর্গ নিয়ে আরো ১১ জনের মৃত্যু

করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে খুলনা, কিশোরগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, কুমিল্লা, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নেত্রকোনায় আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬ মাস বয়সী এক শিশু রয়েছে। এ নিয়ে করোনা উপসর্গ নিয়ে ৯৫ জনের মৃত্যু হলো। খবর আমাদের অফিস,প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের।

খুলনা ঃ খুলনায় করোনার উপসর্গ নিয়ে ছয়মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শিশুটির করোনাভাইরাস ছিল কি না তা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। খুমেক হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (মেডিসিন) ও করোনা ইউনিটের ফোকাল পারসন ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, শিশুটি জ্বর, সর্দি-কাশি ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিল। শুক্রবার তাকে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হলে রাতেই সে মারা যায়।

করিমগঞ্জ( কিশোরগঞ্জ) ঃ শুক্রবার জেলার করিমগঞ্জে করোনার উপসর্গ নিয়ে বিল্লাল হোসেন সুমন (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সে করিমগঞ্জ পৌরসভার করিমগঞ্জ গ্রামের হাজী হাবিবুর রহমানের ছোট ছেলে। বুধবার রাতে তাকে কিশোরগঞ্জে সৈয়দ নজরুল মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার দুপুরে তাকে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। মৃতের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) ঃ জেলার রামগঞ্জে জামাল হোসেন (৪০) নামের এক রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে তিনি উপজেলার শেফালীপাড়া নিজ বাড়িতে মারা যান। মৃতের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, তিনি ৭/৮ দিন যাবত সর্দি-জ্বর, কাশি-শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও গলা ব?্যথায় ভুগছিলেন। রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান বলেন, নিহতের বাড়িসহ আশপাশের ৬ বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

ভোলা (দক্ষিণ) ও লালমোহন ঃ ভোলার লালমোহনে করোনা উপসর্গ নিয়ে আবু সরদার (৬০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বরিশালে। আবু সরদার, উপজেলার ৭নং পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। আবু সরদারের মৃত্যুর ঘটনায় ইউনিয়নটির ৩ নং ওয়ার্ডের কাশ্মীর ও ৬ নং ওয়ার্ডের গুচ্ছগ্রাম এবং পার্শ্ববর্তি ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড ১৪ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষনা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবীবুল হাসান রুমি।

কুমিল্লা ও দেবিদ্বার ঃ  করোনায় আক্রান্ত হয়ে জীবন কৃষ্ণ সাহা (৫৫) নামের এক ব্যবসায়ীর নারায়নগঞ্জে মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ভোরে তিনি মারা যান। শনিবার ঢাকার আইইডিসিআর থেকে ওই ব্যবসায়ীর করোনার পজেটিভ ফলাফল আসার পরই তার বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে গিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ তার মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয়। শনিবার দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ কবীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত ওই ব্যবসায়ী উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের নবিয়াবাদ এলাকার মৃত মনমোহন সাহার ছেলে। তিনি নারায়নগঞ্জের একটি সুতার ফ্যাক্টরী থেকে বিভিন্ন কোম্পানীতে সুতা সরবরাহের ব্যবসা করতেন। তবে সঠিক সময়ে চিকিত্সা না পাওয়ায় জীবন কৃষ্ণ দাসের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। রাকিব হাসান বলেন, জীবন সাহার বাড়িসহ আশপাশের ৮টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

এদিকে কুমিল্লায় আরো ২ জনের করোনা ফলাফল পজেটিভ এসেছে। এর মধ্যে একজনের বাড়ি বুড়িচং উপজেলার জিয়াপুর এবং অন্যজনের তিতাস উপজেলার বিরামকান্দি গ্রামে।

পরশুরাম ঃ ফেনীর পরশুরামে শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আমান উল্লা (২০) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সে পরশুরাম পৌর এলাকার ৫ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সদস্য ও গত কয়েকদিন ধরে ত্রাণ বিতরণ কাজে নিয়োজিত ছিলো। পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আবদুল খালেক জানান, শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে তার মৃত্যু হয়েছে। মৃতের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশন ডিজিজ (বিআইটিআইডি) সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঃ  ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে  মুন্না বেগম (২৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে শহরের কাউতলী এলাকায় নিজ বাসায় তিনি মারা যান। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে ওই নারীর নমুনা সংগ্রহ করেছে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এদিকে করোনা উপসর্গ নিয়ে জেলায় আরো এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলার নবীনগর উপজেলায় জ্বর ও সর্দি কাশি নিয়ে হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আসা ইব্রাহিমপুর গ্রামের জাহানারা (৮০) মারা গেছেন। তিনি ওই গ্রামের ফুল মিয়ার স্ত্রী। তার শরীর থেকেও নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে নবীনগর উপজেলায় একজন মারা গেছেন এবং বাকি ৬ জন চিকিত্সাধীন রয়েছেন।

নেত্রকোনা ও  মোহনগঞ্জ ঃ জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের নরোত্তম( ৫০) নামে এক ব্যক্তি করোনার উপসর্গ নিয়ে শুক্রবার মারা গেছেন। মোহনগঞ্জ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ বিনয় রায় জানান, শুক্রবার সকালে উপজেলার মাঘান সিয়াধার ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামের নরোত্তম কদিন যাবত্ সর্দি জ্বের ভুগছিলেন। তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে পরীক্ষা করার জন্য।

মধুখালীতে পেট ব্যাথা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু

মধুখালী (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান,  ফরিদপুরের মধুখালীতে পেট ব্যথা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রাস্তার পাশে গোটা দিন কাতরানোর পরও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে তার সাহায্যে এগিয়ে আসেনি কেউ। খবর পেয়ে প্রশাসনের লোকজন হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ঘটেছে  উপজেলার মাঝিবাড়ী নামক স্থানে। মৃত ব্যক্তির নাম আবদুস সামাদ মন্ডল (৪৮)। তিনি ঝিনাইদহ জেলা  সদরের খাজুরা গ্রামের সিটি কলেজ এলাকার মৃত আফজাল মন্ডলের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষি শ্রমিক ।

গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গাজীপুরের শ্রীপুরে জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় দুই দিনে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। ঐ তিন জনের বাড়ির লোকজনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কি না, তা জানতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিত্সক ফাতেহ আকরাম জানান, মৃত তিন জনের মধ্যে এক জনের বয়স ৪৫ বছর। শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়। অপর দুই জনের একজন নারী (৫৫)। শনিবার সকালে তিনি মারা যান। অন্য জন (৫৭) শনিবার দুপুরে মারা যান।