কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে যেতে রাজি না হওয়ায় ৬ ডাক্তার সাসপেন্ড

কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে বদলির পরও সেখানে যোগদান করেননি ৬ জন চিকিত্সক। কেন তারা যোগদান করেননি, সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে কিছুই জানাননি। ফলে তাদের সাসপেন্ড করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে অনেকে মৌখিকভাবে বলেছেন, তারা কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে যেতে রাজি নন। তাতে যে সিদ্ধান্তই নিক কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, এসব চিকিত্সকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চিকিত্সকরা হলেন: জুনিয়র কনসালট্যান্ট (এনেসথেসিয়া) ডা. হীরস্ব চন্দ্র রায়, মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফারহানা হাসানাত, মেডিক্যাল অফিসার ডা. উর্মি পারভীন, মেডিক্যাল অফিসার ডা. কাওসার উল্লাহ, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি) ডা. শারমিন হোসেন ও আবাসিক চিকিত্সক ডা. মুহাম্মদ ফজলুল হক।

এদিকে ১১ জন চিকিত্সকসহ ৩১ জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এদের মধ্যে তিন জন আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) আছেন। চিকিত্সকদের মঞ্চ বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশন (বিডিএফ) মনে করছে, রোগীর রোগের তথ্য প্রকাশ না করা, চিকিত্সকদের জন্য সঠিক মানসম্মত সুরক্ষা পোশাক পর্যাপ্ত না থাকা এবং করোনার পরীক্ষা-নিরীক্ষার সংখ্যা কম           হওয়ায় চিকিত্সকেরা আক্রান্ত হচ্ছেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রোগী অনুপাতে বাংলাদেশে চিকিত্সকদের আক্রান্তের হার বেশি। এভাবে চলতে থাকলে আরো বহু চিকিত্সক আক্রান্ত হবেন এবং সেবাব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

আইসিইউতে চিকিত্সাধীন তিন চিকিত্সকের মধ্যে এক জন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব  মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্ট্রো অ্যান্টারোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, এক জন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং আরেক জন অর্থোপেডিক সার্জন।

১১ জন চিকিত্সকের বাইরে আরো ২০ জন নার্স ও স্বাস্থ্য সহকারী আক্রান্ত হয়েছেন। আইইডিসিআর জানিয়েছে, আক্রান্তদের সবাই সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন, তা নয়। বরং কেউ কেউ কমিউনিটির অংশ হিসেবে আক্রান্ত হয়েছেন।