করোনায় স্বল্প পরিসরেও কোর্ট না খোলার সিদ্ধান্ত

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণকে রক্ষা করতে স্বল্প পরিসরেও আদালতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সকল বিচারপতিদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে তিনি গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

গতকাল শনিবার গৃহীত ঐ সিদ্ধান্তে বলা হয়, স্বল্প পরিসরে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে আদালত প্রাঙ্গণে বিচারক, আইনজীবী, আদালতের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনজীবী সহকারীসহ মামলা সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও তদবিরকারকগণের উপস্থিতি আবশ্যক। করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতির সংকটময় সময়ে আদালত            প্রাঙ্গণে সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্বল্প পরিসরেও আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করা সমীচীন হবে না। প্রসঙ্গত গত মার্চ মাসে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ সীমিত আকারে কোর্ট খোলা রাখার জন্য প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

গতকাল সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সরকারি বাসভবনে বিচারপতিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধান বিচারপতি ছাড়াও আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মুহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান যোগ দেন। সামাজিক দূরত্ব মেনেই বিচারপতিরা বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বিচারপতিরা বলেছেন বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের উচ্চ ও অধস্তন আদালতের যে কোনো পর্যায়ে কোর্ট খোলা রাখাটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ দেশে এখন করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সংক্রমণ পরিস্থিতির ক্রান্তিকাল চলছে। এই সময়ে বহু মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। ফলে স্বল্প পরিসরে কোর্ট খোলা রাখা হলে সেখানে কয়েক শ আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণ ভিড় করবে। আর সরকারের নির্দেশনাও রয়েছে যে, ভিড় বা জনসমাগম এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। সেক্ষেত্রে স্বল্প পরিসরে কোর্ট খোলা রাখা হলে করোনা ভাইরাসে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণের সংক্রমিত হওয়ার সুযোগ অনেক বেশি। এছাড়া সুনির্দিষ্ট আইন না থাকায় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে আদালতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টিও নাকচ করে দেন বিচারপতিরা।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এম আমিনউদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, আমরা একটা সংকটকালীন সময় পার করছি। সংকটকালীন সময় বিবেচনায় নিয়ে প্রধান বিচারপতি স্বল্প পরিসরে কোর্ট না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ কোনো আইনজীবী বা বিচারপ্রার্থী জনগণ যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন তখন আরো সমস্যার সৃষ্টি হবে। এজন্য তরুণ আইনজীবীদের জন্য একটা থোক বরাদ্দ দিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।