ইনসেপ্টা কোম্পানির উত্পাদিত জীবনরক্ষাকারী রিকোনিল (হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন) ওষুধটি হঠাত্ করেই রাজশাহীর বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে। নগরীর সাহেববাজার ও লক্ষ্মীপুরসহ কোথাও ওষুধটি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ওষুধের জন্যে গেলে ফার্মেসিগুলো বলছে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চিকিত্সার জন্যে ওষুধটা কিছুটা ফলপ্রসূ হওয়ায় সরকারের নির্দেশে প্রশাসন থেকে সবগুলো রিকোনিল ক্লোজড করা হয়েছে। তবে ফার্মেসিগুলোর এই বক্তব্যে জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। ইনসেপ্টা কোম্পানির রাজশাহীস্থ ডিপোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, তাদের গুদামে রিকোনিল নেই। এ সুযোগে ফার্মেসিগুলো ম্যানেজ করে দেওয়া যাবে বলে ৩০টা ট্যাবলেটের এক প্যাকেট ওষুধের দাম ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ এক প্যাকেট ওষুধের মূল্য মাত্র ৩৫০ টাকা।
ভুক্তভোগী ব্যক্তি রাজিব আহসান রনী জানান, তার ১২ বছরের মেয়ে দীর্ঘ চার বছর ধরে মরণব্যাধি ‘সিস্টেমিক লুপাস এরিথোমেটোসিয়াস’ সংক্ষেপে এসএলই নামক রেয়ার রোগে ভুগছে। ফলে চার বছর ধরেই অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে দেড়টা করে প্রতিদিন মেয়েকে রিকোনিল ওষুধ খাওয়াতে হয়। এখন বাজারে রিকোনিল ওষুধ না পেয়ে তিনি দিশাহারা। এক পর্যায়ে লক্ষ্মীপুরের পূর্ব পরিচিত এক ফার্মেসি ম্যানেজ করে দেওয়ার নামে ৩৫০ টাকার এক প্যাকেট ১ হাজার ৮০০ টাকা নিয়েছে। যা বাজারমূল্যের পাঁচগুণের বেশি।
এদিকে শুধু রিকোনিল ট্যাবলেটই নয়, করোনা ভাইরাসের দোহাই দিয়ে ডেটল, স্যাভলন, হ্যান্ডওয়াশ, ব্লিচিং পাউডার, হ্যান্ডরাব, গ্লাভস, মাস্ক কোনো কিছুই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে গোপনে বেশি দাম দিলে পাওয়া যাচ্ছে। ভুক্তভোগীরা রাজশাহী মেয়র, এমপি, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফার্মেসিগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।