করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে মার্চ মাসের শুরুর দিকেই রাজধানীর ছাত্রী হোস্টেলগুলো খালি হয়ে গেছে। মেয়েরা হোস্টেল ছেড়ে বাড়ি চলে গেছেন। কিন্তু ১ এপ্রিল থেকে হোস্টেলের থাকা ও খাওয়ার টাকা দিতে অতিষ্ট করে তুলছে হোস্টেল তত্ত্বাবধায়করা, যদিও ছাত্রীরা হোস্টেলে অনুপস্থিত।
রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকায় অবস্থিত নিবেদিতা ছাত্রী হোস্টেলের একটি শাখার ছাত্রী শারমিন অভিযোগ করে বলেন, আমি গ্রামে চলে এসেছি, এখান থেকে বিকাশের সুযোগ নেই। বিকাশ করতে বাজারে যেতে হবে। আর সেখানে যাওয়া এ অবস্থায় সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিলেও একাধিকবার ফোন করেছে হোস্টেল কর্তৃপক্ষ। তারা বলছেন, ‘টাকা না পাঠালে আপনার রুমে রাখা জিনিসপত্র বের করে অন্যকে রুম ভাড়া দেওয়া হবে’। ঐ ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, আমরা মাসের শুরুতে আগে টাকা পরিশোধ করি, তারপর সেই মাসের সার্ভিস নেই। কিন্তু দেশের এই পরিস্থিতিতে এ ধরনের আচরণে আমরা খুবই মর্মাহত।
আরও পড়ুনঃ জামালপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু
রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আসাদগেট, লালমাটিয়া, ধানমন্ডি, শুক্রাবাদ, কলাবাগান, নীলক্ষেতসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে অসংখ্য ছাত্রী হোস্টেল। এসব হোস্টেলের একাধিক ছাত্রী এ ধরনের অভিযোগ করেছেন। এসব বেসরকারি ছাত্রী হোস্টেলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এবং কোচিং করতে আসা ছাত্রীরাই থাকেন। এসব হোস্টেলের ভাড়া থাকা-খাওয়াসহ ৪ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১০/১২ হাজার টাকা পর্যন্ত। এলাকা ও বিল্ডিং ভেদে এসব হোস্টেলের রুম রেন্ট নির্ধারণ করা হয়।
ড্যাব ছাত্রী হোস্টেলের রিফাত বলেন, আমরা অনেকে প্রায় দেড় মাস থেকে হোস্টেলে নেই। অথচ টাকা পরিশোধ করে আসছি। খাবার খাচ্ছি না কিন্তু তারপরেও অর্ধেক টাকা বা ১ হাজার টাকাও তারা ছাড় দিবে না। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা এমন অমানবিক চাপের কথা জানান। তারা আরো বলেন, আমরা হোস্টেল ছেড়ে আসার সময় মার্চ মাসের সিট ভাড়া ও খাবারের টাকা পরিশোধ করে এসেছি।
ঢাকায় গিয়ে কবে আবার আমরা হোস্টেলে উঠব, এখনো তা নিশ্চিত নয়। এদিকে এপ্রিল মাসের সিট ভাড়ার সঙ্গে হোস্টেল মালিক খাবারের টাকাও দাবি করছেন। যদিও আমরা সিট ভাড়া পরিশোধ করতে চাচ্ছি। তবে মানবিক বিবেচনায় আমাদের খাবারের টাকা না নেওয়ার জন্য আবেদন করেও কোনো সদুত্তর পাচ্ছি না। শিক্ষার্থীরা সিট হারানোর ভয়ে অথবা অন্য কোনো কারণে নিজেদের এবং হোস্টেলের নাম প্রকাশ করতে আগ্রহী হননি।
ইত্তেফাক/ এমএএম