কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশ, অনিয়ম এবং বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে সরকারের কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদ বেহাত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নবায়ন ছাড়াই অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সরকারি জমি ও স্থাপনা দখল করে রেখেছে, ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ।
রোববার (২১ জুন) দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ বলেন, ঢাকা জেলা পরিষদের মালিকানাধীন প্রায় ৪০৭ একর জমির মধ্যে কয়েক একর জমি বর্তমানে বেদখলে রয়েছে। এছাড়া একাধিক কমিউনিটি সেন্টার ও অন্যান্য স্থাপনাও বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দখলে চলে গেছে। বেদখল হওয়া সম্পদের মধ্যে কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ এলাকা, রাজধানীর কাঁটাবন একটি ভবন, মোহাম্মদপুরের চাঁদ কমিউনিটি সেন্টার, গাবতলী গরুর হাট, উত্তরার বিভিন্ন পয়েন্ট, সাভার থানা রোড, কাতলাপুর ও কর্ণপাড়া এলাকার সম্পত্তি উল্লেখযোগ্য।
তিনি জানান, এসব সম্পত্তি উদ্ধারে জেলা পরিষদ ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে। গাবতলীতে জেলা পরিষদের জমি দখলে রাখার অভিযোগে অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজলকে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া হানিফ এন্টারপ্রাইজ ও রোজিনা এন্টারপ্রাইজের দখলেও সরকারি জমি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মোরাদ বলেন, গাবতলী গরুর হাট থেকে বর্তমানে সিটি করপোরেশন ইজারা বাবদ অর্থ আদায় করছে। অথচ সেখানে ঢাকা জেলা পরিষদের প্রায় ৪৭ একর জমি রয়েছে। একইভাবে দুই সিটি করপোরেশনের দখলে জেলা পরিষদের আরও জমি ও সম্পদ রয়েছে। এ বিষয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও সন্তোষজনক সাড়া পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, পুরান ঢাকার জনসন রোড এলাকায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই শত কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ তলা ‘ঢাকা টাওয়ার’ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণকাজ এখনও অসম্পূর্ণ থাকায় বিষয়টি নিয়ে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ওএসডি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।
সরকারি সম্পদ রক্ষা ও রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিষয়গুলো জানানো হয়েছে। বেদখল সম্পত্তি উদ্ধারে জেলা পরিষদ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

