স্পোর্টস ডেস্ক
করোনার ভাইরাসের কারণে বিশ্বের আর সব কর্মকাণ্ডের মতো পুরো ক্রীড়াজগত্ও বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে। প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ হয়ে আছে ইউরোপীয় সব ফুটবল লিগ। একের পর এক বাতিল হচ্ছে আসন্ন সব প্রতিযোগিতাও। তবে অদূর ভবিষ্যতে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে বিশ্বকে মানসিক শক্তি যোগানোর গুরুদায়িত্বটা পালন করবে খেলাধুলাই, অভিমত অস্ট্রেলিয়া ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক টিম ক্যাহিলের।
সম্প্রতি গোল ডটকমে এক কলামে তিনি লেখেন, ‘পুরো পৃথিবী এখন এক অনিশ্চয়তার জায়গায় পরিণত হয়েছে। আমরা জানি না কখন এই পরিস্থিতি শেষ হবে, আরো খারাপ অবস্থার মুখে পড়তে হবে কি না কিংবা পরিস্থিতি শেষ হলে জীবনকে আমরা কীভাবে দেখব...’
তবে পরিস্থিতি যতোই কঠিন হোক আপাতত ইতিবাচক চিন্তাকেই মগজে জায়গা দিচ্ছেন ক্যাহিল, ‘এখন খেলাধুলাকে পেছনের কোনো এক আসনে বসে অপেক্ষা করতে হবে। আমি নিজেও আপাতত অদূর ভবিষ্যতে যখন এটা শেষ হবে সেটা চিন্তা করার চেষ্টাই করছি।’
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্রীড়াজগতকে অনেক বড়ো ভূমিকাই পালন করতে হবে বলে মনে করছেন সাবেক এভারটন স্ট্রাইকার। তার ভাষ্য, ‘ছয় সপ্তাহ, ছয় মাস কিংবা তার চেয়েও বেশি সময় পরে যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, খেলাধুলাকে অনেক বড়ো ভূমিকাই পালন করতে হবে। মানুষকে স্বাভাবিকতার স্বাদ দেবে খেলাধুলা।’
করোনার কারণে বর্তমানে বিশ্বের প্রতিটি মানুষই আটকে গেছেন নিজ নিজ গণ্ডিতে। এ অবস্থা থেকে পুনরায় সব মানুষকে একত্রিত করার কাজটা করবে খেলাধুলাই, মনে করছেন ক্যাহিল। তিনি যোগ করেন, ‘খেলাধুলার বড়ো শক্তিটা হচ্ছে, এটা আমাদের ঐক্যবদ্ধ করে। বিশেষ করে, ফুটবল বিশ্বকাপ কিংবা অলিম্পিকের মতো বড়ো প্রতিযোগিতাগুলো পুরো বিশ্বকে অবিশ্বাস্যভাবে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসে।’
তবে পেশাদার পর্যায়েই নয়, তৃণমূল পর্যায়ের অপেশাদার খেলাধুলা পর্যন্তও ছড়াবে এর ব্যাপ্তি, মনে করছেন ক্যাহিল। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি করোনার শঙ্কা যখন শেষ হবে, সম্প্রদায়গুলোকে এক করতে তৃণমূল পর্যায়ের খেলাধুলাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এখন আমরা নিজেদের সুরক্ষার জন্যে দূরত্ব বজায় রাখছি। পুরো বিশ্বটাই কিছুটা কম বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতিটা পালটালে এ দূরত্বটা ঘোঁচাতে আমাদের কাজ করতে হবে। আমি আশা করছি তৃণমূল পর্যায়ের খেলাধুলার মাধ্যমে সেটা করতে সক্ষম হব আমরা।’