নববর্ষে অলস দিন কাটাচ্ছেন ময়রা
রাবেয়া বেবী
প্রতি বছর নববর্ষকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি থাকে আমাদের। মণকে মণ মিষ্টি আর দৈ বিক্রি হয়। পহেলা বৈশাখের কয়েকদিন আগে থেকেই অর্ডার আসে। এদিন আমরা এক দুই কেজি মিষ্টি দই নিতে আসা কিছু ক্রেতা অনেক সময় ফিরিয়ে দিতেও বাধ্য হই। সকাল থেকেই বিক্রি শুরু হয়। কিন্তু এবার একেবারে ভিন্ন চিত্র। ২৫ মার্চ দোকান বন্ধ করা হয়। কারিগরাও সব বাড়ি গিয়ে অলস সময় কাটাচ্ছে—কথাগুলো বলছিলেন পুরান ঢাকার প্রসিদ্ধ মিষ্টির দোকান মোহন চাঁন গ্র্যান্ড সন্স-এর ম্যানেজার স্বপন কুমার সরকার।
১ বৈশাখের সঙ্গে মিষ্টির সম্পর্ক বহুকাল থেকে এটি বাঙালির হালখাতার ঐতিহ্য। এবার তার ব্যত্যয় হবে করোনার জন্য বলছিলেন শরীয়তপুরের ঘোষ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী পরিমল ঘোষ। তিনি জানান, সারারাত ধরেই ব্যস্ত থেকে মিষ্টি বানান ময়রারা। ওয়ারির সূর্বণা সুইটসের ব্যবস্থাপক গৌতম ঘোষ জানান, সারা বছর আমাদের যা বিক্রি হয় তার সিংহভাগই হয় নববর্ষে। এটা আমাদের ব্যবসার একটা অন্যতম দিক, কিন্তু এবার তা আর হচ্ছে না।
পুরান ঢাকার জয় মা মিষ্টান্ন, অমূল্য মিষ্টান্ন দোকান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়—এই এলাকার মানুষ আজো মিষ্টিকে শুভর প্রতীক হিসেবে বছরের প্রথম দিন মিষ্টিমুখ করেন। তাই হালখাতার এই অনুষঙ্গের জন্য এ সময় তাদের রমরমা ভাব থাকে। আগে থেকেই বিনিয়োগ করে প্রস্তুতি নেন। মিষ্টির চাহিদা কখোনো কমেনি বরং বেড়েছে। আজ বৈশাখে যেমন মিষ্টির চাহিদা বেশি তেমন এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফল ঘোষণার দিনগুলোতে বলছিলেন আধুনিক মিষ্টি প্রতিষ্ঠান বেকার বে—এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাজাহার উল ইসলাম। তিনি বলেন, ১ বৈশাখে আমদের করপোরেট জগতে যেমন ব্যাংক ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার বড়ো ক্রেতা থাকে যা এবার আর পাচ্ছি না। আবার বোর্ডের ফলাফল ঘোষণার দিনগুলোকেমন হবে তাও জানি না। উপরন্তু আমাদের কর্মচারিদের বেতনও দিতে হচ্ছে। পুরান ঢাকার আদি মরণ চাঁন কর্তৃপক্ষ জানান ১ বৈশাখের ক্রেতা শূন্যতা ও কর্মচারীদের কীভাবে বেতন দিবেন সেই কথা।