করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষায় পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে লকডাউন করা হয়েছে পাঁচ দিন আগে। এরও পক্ষকাল আগে থেকেই কক্সবাজারের সর্বত্র পর্যটক আগমন এবং জনসমাবেশসহ সকল অপ্রয়োজনীয় জনযোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন। ফলে কার্যত অচল হয়ে পড়ে জনজীবন। কর্মক্ষেত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমজীবী, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং ছিন্নমূল পরিবারগুলো অভাব অনটনে চরম দুর্ভোগে পড়েন। এরই মধ্যে সন্তানদের খাবার দিতে না পেরে এক মা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।
সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে করোনার প্রাদুর্ভাব থেকে জনগণকে রক্ষায় কর্মহীন ও হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে শনাক্ত করে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী প্রদানের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপরই জেলা-উপজেলা প্রশাসন এবং রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা শুরু করেন ত্রাণ তত্পরতা। গত ২০ দিনে জেলা প্রশাসন জেলায় ৩৪ হাজার পরিবারের কাছে ৪৯০ টন খাদ্য ও ৬ হাজার ৬০০ পরিবারকে নগদ ১৪ লাখ ৫৯ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দিয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। অন্যভাবে, জেলা আওয়ামী লীগ ও সামাজিক সংগঠন ও করোনা সহায়তা তহবিল করে আরো কয়েক হাজার পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে। কিন্তু এসব প্রচারণার চেয়ে হতদরিদ্র পরিবারগুলোতে ত্রাণপ্রাপ্তির পরিমাণ কম বলে মন্তব্য করেছেন ভুক্তভোগীরা।
প্রশাসনের পক্ষে দেওয়া ত্রাণের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকদের করা তালিকায় চরম স্বজনপ্রীতির কারণে জেলার অনেক দরিদ্র পরিবার ত্রাণ সহায়তা না পেয়ে নীরবে গুমড়ে মরছে। তেমনি এক শ্রমজীবী পরিবারের মা সন্তানদের খাবার দিতে ব্যর্থ হয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। গত রবিবার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কুতুবদিয়াপাড়ার ফার্ম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সমাজ সর্দার নুরুল হক জানান, বাড়িতে খাবার নাই। করোনার কারণে বাইরে কাজে যেতে পারেননি শ্রমজীবী মো. জসিম। অভাবের কারণে সন্তানদের খাবার যোগাড় করতে না পেরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় মো. জসিমের স্ত্রী ৫ সন্তানের জননী কুলসুমা আক্তার (৩৫)। ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আতিক উল্লাহ কোম্পানী ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজস্ব তহবিল থেকে সপ্তাহ চলার মতো খাবার কিনে দেন। স্থানীয় কাউন্সিলর এস আই আকতার কামালের মোবাইলে বেশ কয়েকবার ফোন দেওয়া হয়। তবে রিং হলেও ফোন ধরেননি তিনি। ক্ষুদে বার্তা দেওয়া হলেও উত্তর আসেনি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আশরাফুল আফসার বলেন, ‘সোমবার ঘটনাটি জানার পর সদরের ইউএনও এবং স্থানীয় কাউন্সিলরকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এখনো ফিডব্যাক আসেনি।’
পরিসংখ্যান মতে পুরো জেলায় চার লাখ পরিবার। এর মধ্যে হতদরিদ্র, নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সংখ্যা তিন লাখের অধিক। এদের মধ্যে ইতিমধ্যে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা পেয়েছে ৪০ হাজার পরিবার। আর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় জেলায় ১০ টাকার চাউল সহায়তা পাচ্ছেন ৭৭ হাজার ১১৯ দুস্থ কার্ডধারী পরিবার। ভিজিডি সহায়তা পাচ্ছেন ৫৫ হাজার দুস্থ। সে হিসাবে প্রায় ১ লাখ ৭৩ হাজার পরিবার সাহায্য পেয়েছেন। এ সময়ে কোনো ধরনের সহযোগিতার বাইরে থেকেছে প্রায় সোয়া লাখ পরিবার। এদের মধ্যে হতদরিদ্র, নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবেত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও রয়েছেন।
এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, সাহয্য না পাওয়া কর্মহীনদের তালিকা হচ্ছে। করোনার সংকটকালীন জরুরি খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে মজুত রয়েছে আরো ৫৭৫ টন চাল, ২৮ লাখ ৪৩ হাজার টাকা এবং শিশু খাদ্য নিরাপত্তায় ৬ লাখ টাকা মজুত রয়েছে। মানুষ এখন খাবার না পেয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করবে এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠে কঠোরভাবে কাজ করছে সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ শৃঙ্খলাবাহিনী।’