নোয়াখালী-৫ আসন

প্রচারণায় এগিয়ে কাদের, পিছিয়ে মওদুদ

একাদশ সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালীর ৬টি নির্বাচনী আসনের  মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসনটি হচ্ছে নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট)। এ আসনে দু’জন হেভিওয়েট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। এ দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের লড়াইয়ে অনেক এগিয়ে আছেন ওবায়দুল কাদের। অন্যদিকে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ প্রচারে অনেক পিছিয়ে ছিলেন।

এ আসন থেকে ওবায়দুল কাদের ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশীদার হিসেবে ওবায়দুল কাদের এলাকায় জনপ্রিয় এবং প্রশংসিত। গত কয়েক বছরে তার নির্বাচনী এলাকায় পাকা রাস্তাঘাট, বিদ্যুতায়ন, নদী ভাঙন রক্ষায় মুছাপুরে ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্লোজার নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নোয়াখালী খাল পুর্নখনন, ২৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সোনাপুর-কবিরহাট-কোম্পানীগঞ্জ-জোয়ারগঞ্জ সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ কয়েক হাজার কোটি টাকার অবকাঠামেগত উন্নয়ন করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজের তদারকি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণের মাঝে সাড়া জাগিয়েছেন তিনি। একইভাবে এলাকায় তার নিয়মিত উপস্থিতি দলীয় নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করেছেন। দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকরা এলাকায় তার পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। এলাকায় একাধারে গত কয়েক দিন তার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং সরকারের উন্নয়ন ও আগ্রযাত্রা তুলে ধলে ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন। তার পথসভাগুলোতে নারী-পুরুষসহ সকল শ্রেণির মানুষের ব্যাপক সমাবেশ ঘটে। নির্বাচনী প্রচারের শেষদিন বৃহস্পতিবার তিনি কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট হাইস্কুল মাঠে সকালে ও বিকালে কবিরহাট জিরো পয়েন্টে দুটি নির্বাচনী পথসভা করেন। পথসভাগুলো জনসভায় পরিণত হয়। পথসভাগুলোতে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী নির্বাচনে তরুণ এবং নারীরাই হবে আওয়ামী লীগের বিজয়ের প্রধান হাতিয়ার। সর্বস্তরের মানুষ আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করবে। জনতার ঢল যেভাবে নেমেছে, তাতে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ নিশ্চিত জয়লাভ করবে। আমি আগে বিদ্যুত্ ও রাস্তা করে দেওয়ার দুটি ওয়াদা করেছি, তা পূরণ করেছি। আমার নেত্রী শেখ হাসিনার কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে এখন দুটি ওয়াদা করছি— আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে ও আমি নির্বাচিত হলে এলাকার ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ ও একজন বেকার যুবককে চাকরি দেব। 

এদিকে ওবায়দুল কাদের সমর্থনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোঃ সাইফুল ইসলাম। তিনি নৌকার পক্ষে প্রচার চালান।

অন্যদিকে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৯১, ২০০১ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি এবার নির্বাচনী প্রচার মাঠে অনেক পিছিয়ে ছিলেন। তিনি সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করে বলেছেন,  আওয়ামী লীগের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী দলের সাধারণ সম্পাদকের নির্বাচনী এলাকা এটি, এটি আমারও নির্বাচনী এলাকা। এখানে নেই গণতন্ত্র। আমার নিরাপত্তা নেই। এলাকায় সুষ্ঠু ও সুন্দর একটি নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করার কথা থাকলেও তা নেই। আমাকে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধাপ্রদান,গাড়ি ভাঙচুর, নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও হামলা চালাচ্ছে সরকারি দল। আমার ক্ষমতার সময় এলাকায় আমি অনেক  উন্নয়ন করেছি।  এটি নিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে।

এ আসনটি ২টি পৌরসভা ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৮টি এবং কবিরহাট উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ৩ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৯ জন ভোটার অধ্যুষিত এ আসনে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৬০ ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫৭৯ জন।