ত্রাণ আত্মসাত্কারীরা দেশ ও জাতির শত্রু

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী ত্রাণ আত্মসাত্কারীদের বিরুদ্ধে তাত্ক্ষণিক শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। গতকাল সোমবার ১৪ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এরই মধ্যে আমরা লক্ষ্য করেছি, কিছু দুর্নীতিবাজ ত্রাণসামগ্রী আত্মসাত্ করার চেষ্টা করেছে। এসব ত্রাণ আত্মসাত্কারী দেশ ও জাতির শত্রু। তাদের কোনো দল নেই, ধর্মও নেই। তাই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। করোনা প্রতিরোধে এক জন সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সব নির্দেশনা মেনে স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী জনগণকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

১৪ দলের যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম এমপি, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জাতীয় পার্টি-জেপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী এমপি, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, গণআজাদী লীগের সভাপতি এস কে শিকদার, ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান ও বাসদের রেজাউর রশীদ খান।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বাঙালি জাতি চিরদিনই যে কোনো দুর্যোগ ও দুঃসময়কে সাহসের সঙ্গে অতিক্রম করেছে। দল-মত নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমানের এ দুঃসময়কে পরাজিত করব ইনশাল্লাহ। বিবৃতিতে বলা হয়, ১৪ দল মনে করে নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থেই দেশবাসীকে কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে এখন জনসমাগম পরিহার করতে হবে।

এ সময়ে আমরা কয়েকটি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। প্রথমত, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সচিব, ডিজিসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাময়িক বিশ্রাম ছাড়া সব সময়ের জন্য নিজ অফিসে অবস্থান করে নিবিড় সমন্বয় সাধন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়হীনতার অর্থ হলো, বর্তমান বিপর্যয়কে আরো ঘনীভূত করা। এরই মধ্যে আমরা গার্মেন্টস খোলা-বন্ধ নিয়ে এক অচলাবস্থা লক্ষ্য করেছি। বিদেশফেরতদের তাত্ক্ষণিক ঘরে বা প্রাতিষ্ঠানিক হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করতেও গাফিলতি লক্ষ্য করেছি। এ সব বিষয় কঠোরভাবে সমন্বয় করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের। এক্ষেত্রে কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। দ্বিতীয়ত, এখনই যে সব চিকিত্সক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী করোনা চিকিত্সার দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের অবিলম্বে চিকিত্সা কেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী কোনো ভালো হোটেলে রাখা ও খাওয়া-দাওয়ার সার্বক্ষণিক ব্যবস্থা করতে হবে।