একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত পুলিশ। নির্বাচনকে ঘিরে কোনো অপশক্তি যদি গোলযোগ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। গতকাল বিকালে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনকালে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করছে না। বিরোধীপক্ষ কোনো তথ্য ছাড়াই পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সংঘাতমুক্ত, নিরাপদ এবং আনন্দমুখর করতে ডিএমপি’র পক্ষ থেকে একটি সুসমন্বিত, সুদৃঢ় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। ভোটারদের নিরাপদে কেন্দ্রে যাওয়া ও বাসায় ফেরা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীতে ২ হাজার ১১৩টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। প্রত্যেকটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। এর বাইরেও ৪/৫টি কেন্দ্রের জন্য একটি করে মোবাইল টিম থাকবে। থানা ও ডিভিশনাল পর্যায়ে স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। ঢাকা শহরে থাকছে ৪টি কন্ট্রোল রুম। যে ১৪টি কেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার জমা এবং গ্রহণ করা হবে সেখানে রয়েছে আমাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ডিএমপি প্রধান বলেন, আমরা সকল সংস্থা মিলে এই নির্বাচনে যাতে কোনো ধরনের সংঘাত না হয়, ভোটারদের যাতে কেউ ভয়ভীতি দেখাতে না পারে সেজন্য সবরকম প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা। অগ্রিম তথ্য সংগ্রহের জন্য আমাদের গোয়েন্দারা তত্পর রয়েছে। গুজব প্রতিরোধে আমাদের সাইবার টিম কাজ করছে। যদি কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকে তাহলে আমরা তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নিব।
তিনি বলেন, ২৯ ডিসেম্বর রাত ১২টা থেকে ৩০ ডিসেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে যারা ট্রেন, লঞ্চ ও বিমানে ভ্রমণ করবে তাদের টিকিট ও পাসপোর্ট থাকলে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে। প্রার্থী ব্যতীত অন্য কেউ লাইসেন্সকৃত অস্ত্র বহন করতে পারবে না। নির্বাচনে প্রতিটি প্রার্থী ও তাদের এজেন্টদের নিরাপত্তা দিতে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।
ভোটাররা যাতে নিরাপদে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে সেজন্য নগরজুড়ে আমাদের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো ভোটারকে কেউ কোনো প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন করলে সে আমাদের কন্ট্রোল রুম, সংশ্লিষ্ট ডিসি, নির্বাচন কমিশন অফিস ও প্রিজাইডিং অফিসারকে জানাতে পারবে। এছাড়াও ৯৯৯ এ ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।