খাবারের কষ্টে গৃহকর্মীরা

দিদারুল আলম

গৃহকর্মী বিউটি কাজ করতেন ছয়টি বাসায়। মাস শেষে পেতেন ১০ থেকে ১২ হাজর টাকা। নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ছাড়াও মাঝে মধ্যে ভাগ্যে জুটত এক বেলা খাবার। কিন্তু করোনার প্রাদুর্ভাবে বিউটি কাজ হারিয়েছেন সবকটি বাসার। শুধু বিউটিই নয়, তার মতো লাখ লাখ গৃহকর্মী কাজ হারিয়ে এখন অর্থকষ্টে দিনাতিপাত করছেন। এভাবে কতদিন তাদের কর্মহীন থাকতে হবে সেটাও জানে না তারা। এই কর্মহীন সময়ে কীভাবে ঘর ভাড়া পরিশোধ করবেন এবং পরিবারের সদস্যদের মুখে অন্ন তুলে দেবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তা ভর করছে তাদের ওপর।

বিউটির মতো একাধিক বাসায় কাজ করতেন ৫৫ বছর বয়সি আলেয়া। তিনিও কাজ হারিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গৃহকর্মীরা জানান, বাসা-বাড়ির মালিকরা আমাদের কাজে যেতে নিষেধ করেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যোগাযোগ করতে বলেছেন। এখন কাজ নেই, এই সময়ে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে কীভাবে বাঁচব সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তা।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) এর পরিচালক নাজমা ইয়াসমিন ইত্তেফাককে জানান, ঢাকায় প্রায় ১৩ লাখ গৃহশ্রমিক রয়েছেন। এর অধিকাংশই অস্থায়ী। এই অস্থায়ী গৃহশ্রমিকরাই কাজ হারিয়েছেন। স্থায়ী যেসব গৃহশ্রমিক রয়েছেন তারা কাজে রয়েছেন। তবে এদের অনেকেই কাজ না করলেও নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গৃহশ্রমিকরা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন। সরকারের উচিত এখনই গৃহশ্রমিকদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ করা। যাতে তারা সংকট কাটিয়ে উঠতে পারে। তবে গৃহকর্মীদের অনেকেই সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি ও নানা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া সাহায্য পাচ্ছেন। এ বিষয়ে কথা হয় গৃহকর্ত্রী রাশেদা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, গৃহকর্মীরা একাধিক বাসায় কাজ করেন। তাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি রয়েছে। করোনা ভাইরাস যদি এদের মাধ্যমে বাসার কেউ আক্রান্ত হয় সেটা তো বড়ো সমস্যার সৃষ্টি করবে। এজন্য গৃহকর্মীদের বাসায় আসতে বারণ করা হয়েছে। একই মত ব্যক্ত করলেন হাফিজা খাতুন। তিনি জানান, প্রতিদিনের কাজে আসতে নিষেধ করা হলেও মাস শেষে পারিশ্রমিক নিয়ে যেতে বলেছি। কারণ মেয়েটি আমার বাসায় পাঁচ বছর ধরে কাজ করছে। যদি এই দুঃসময়ে ওকে এতটুকু সাহায্য না করি তাহলে কীভাবে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকবে। শুধু হাফিজা খাতুন নয়, তার মতো আরো অনেকেই কাজে না রাখলেও গৃহকর্মীদের মাসিক পারিশ্রমিক দিয়ে যাচ্ছেন। তবে সেই সংখ্যা খুবই নগণ্য।

গৃহকর্মী বিউটি জানান, ‘আমি কয়েকটি বাসায় কাজ করি। সকালে কাজে এসে সন্ধ্যায় যাই। আমার সামান্য আয়ের ওপর চার জনের সংসার চলে। এখন কাজ নাই, এক বেলা খেয়ে আরেক বেলা না খেয়ে দিন পার হচ্ছে। শুধু আমি একা নই, আমার মতো যারা বাসা-বাড়িতে কাজ করে তাদের সবারই একই অবস্থা।’ এদিকে করোনা ভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা, সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি নির্দিষ্ট এলাকা লকডাউনসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে এবং নিচ্ছে। এমন পরিস্থতিতে পরিবারের সদস্যরা বাসা-বাড়িতে অবস্থান করছেন। গৃহকর্মী না থাকায় বাসায় গৃহকর্ত্রীর নানা কাজে সহযোগিতা করছেন অন্যরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অনেকেই তা প্রকাশ করছেন। এতে খুশি গৃহকর্ত্রীরাও।