অসংগঠিত খাতের শ্রমজীবীদের ৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার দাবি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দেশব্যাপী অসংগঠিত খাতে বিশালসংখ্যক শ্রমিক রয়েছে, যারা বর্তমানে করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতির কারণে কর্মহীন অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ না থাকায় এসব শ্রমিক বর্তমানে খাদ্য সংকটসহ নিদারুণ কষ্টে রয়েছে। এসব শ্রমজীবীর পরিবারপ্রতি আপত্কালীন সহায়তার অংশ হিসেবে নগদ ৫ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন।

সম্প্রতি এক বিবৃতিতে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামরূল আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হক আমিন এ দাবি জানান। বিবৃতিতে তারা বলেন, দেশের প্রায় সাড়ে ৫ কোটি মানুষ এ সংকটে পড়েছেন। বিশেষ করে, নৈমিত্তিক ভিত্তিতে কর্মকরা শ্রমিক, অনিয়মিত শ্রমিক, ক্ষেতমজুর বা কৃষি শ্রমিক, স্বনিয়োজিত শ্রমে নিযুক্ত মানুষ যেমন হকার, খুদে বিক্রেতা, রিকশাচালক, অটোরিকশাচালক, গাড়িচালক, বাস-ট্রাক চালক ও হেলপার, কুলি ও মুটেমজুর, লোডার ও আনলোডার, নির্মাণ, বিড়ি ও গৃহশ্রমিক, দর্জিসহ অসংগঠিত খাতের বিপুলসংখ্যক মানুষ ও তাদের পরিবার অনাহারে ভুগছেন। খাদ্য পাওয়ার আশায় এ মানুষ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম ভঙ্গ করে দ্বারে দ্বারে ঘুরে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে উল্লিখিত শ্রমজীবী মানুষের তালিকা করে জরুরি আয় সহযোগিতা, দ্রুত খাদ্য ও বিনামূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা প্রয়োজন।

এরই মধ্যে সরকার সংকট মোকাবিলায় রপ্তানিমুখী শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছেন। কৃষি খাতেও প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা একে স্বাগত জানাই। বিবৃতিতে তারা বলেন, সরকার রপ্তানিমুখী গার্মেন্ট শ্রমিকদের জন্য তিন মাসের বেতন-ভাতা দেওয়ার ঘোষণার পরও মালিকপক্ষ বেতন দিতে বিলম্ব ও সরকারঘোষিত ছুটির সুযোগে অন্যায়ভাবে শ্রমিক ছাঁটাই করে শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা ভেঙে বিক্ষোভে নামতে বাধ্য করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করায় লিপ্ত হয়েছেন, যা বেআইনি।

দ্রুত শ্রমিকদের বকেয়া বেতন প্রদান ও অবৈধ ছাঁটাই বন্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। বিবৃতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের আট সপ্তাহ মজুরি বকেয়া, শ্রমিক-কর্মচারীদের তিন মাসের বেতন বকেয়া, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের বকেয়া পরিশোধ করে সংকট সমাধান করার দাবি জানানো হয়।