স্পোর্টস রিপোর্টার
সর্বশেষ যখন বাংলাদেশ সফরে এসেছিল অস্ট্রেলিয়া, এই নাথান লিঁওই মান বাঁচিয়েছিলেন বিশ্বসেরা দলটির। মিরপুরে হারের পর চট্টগ্রামে জিতেছিল তারা লিঁওর ওপর ভর করে। তাই বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জটা তিনি ভালোই জানেন। সেই বাংলাদেশ সফরটা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় আফসোস করেছেন অস্ট্রেলিয়ান এই স্পিনার।
বাংলাদেশের বিপক্ষে এখানে এসে খেলাটাকে চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে লিঁও বলেছেন, ‘বাংলাদেশে যাওয়া হচ্ছে না, এটা অবশ্যই হতাশাজনক। আমাদের জন্য সিরিজটি হতো বড়ো এক চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ এমন জায়গা, যেখানে আমি ব্যক্তিগতভাবেও চ্যালেঞ্জ টের পাই খেলতে দারুণ উপভোগ করি।’
তবে লিঁও আশাবাদী যে, এই সিরিজটা সামনে কোনো এক সময়ে হবে। সেজন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া কাজ করবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি, ‘সূচির কথা বললে, আইসিসি, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও সব বড়ো কর্তারা নিঃসন্দেহে সম্ভব সব কিছুই করবে যেন আমরা সেখানে যেতে পারি ও ক্রিকেট খেলতে পারি।’
করোনা ভাইরাসের কারণে কেবল অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফর নয়, বেশ কিছু বড়ো বড়ো সিরিজ বাতিল হয়েছে। তাতে শঙ্কায় পড়েছে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপও। তবে লিঁও আশাবাদী যে, তারা এই চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল নিশ্চিত করতে পারবেন, ‘এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে ঐ সময় জুড়ে সেরা দুটি দলই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে লড়বে। আমি তাই অবশ্যই সেখানে থাকতে চাই। অস্ট্রেলিয়াকে সেখানে দেখতে চাই। আমার মনে হয়, আমরা সঠিক পথেই আছি। আমাদের দলটা তরুণ, কিন্তু বিশ্বাস করি দুর্দান্ত একটি দল হয়ে গড়ে উঠছি আমরা। আইসিসির কর্তারা ও সম্পৃক্ত অন্যরা এ বিষয়ে (ফাইনালের সম্ভাব্য সময়) সিদ্ধান্ত নিবে। আমাদের কেবল অপেক্ষা করতে হবে।’
বাংলাদেশে সবশেষ সফরে মিরপুর টেস্টে হেরে সিরিজে পিছিয়ে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় টেস্টে চট্টগ্রামে জিতে সমতায় সিরিজ শেষ করতে পেরেছিল তারা। ১৩ উইকেট নিয়ে দলের সেই জয়ে বড়ো অবদান ছিল লায়নের। ২ টেস্টে ২২ উইকেট নিয়ে এই অফ স্পিনার সিরিজের সেরা হয়েছিলেন যৌথভাবে ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে।
নাথান লিঁও এই আলাপচারিতায় বর্তমানের খেলা প্রসঙ্গ ছাড়াও কথা বলেছেন তার সতীর্থ ফিল হিউজের মারা যাওয়া সম্পর্কে। লিঁও বলছিলেন, এখনো তার সেই স্মৃতি মনে আছে, ‘ফিল হিউজের চলে যাওয়া। ফিল সেদিন যখন আঘাত পেল, ওর থেকে মাত্র ১০ মিটারের মতো দূরে ছিলাম আমি। স্মৃতিগুলো অবশ্যই এখনো তরতাজা। আমার খুব ভালো বন্ধু ছিল, সতীর্থ হিসেবেও ছিল অসাধারণ।’
হিউজের ঐ চলে যাওয়া লিঁওর জীবনও বদলে দিয়েছে বলে বলছিলেন তিনি, ‘আচমকাই বুঝতে পেরেছিলাম, ক্রিকেটকে আমরা জীবন বলি, এটি স্রেফ আসলে একটি খেলাই। দুনিয়া জুড়ে অনেক মানুষ হয়তো আমাদের মতো হতে চায়, এমন জীবন কাটাতে চায়। কিন্তু ফিল যখন আঘাত পেল, তখন মনে হলো সব কিছু ঠুনকো। ক্রিকেট মাঠে আমার সবচেয়ে দুঃসহ মুহূর্ত সেটিই।’