প্রার্থী-এজেন্টদের যে বার্তা দিল বিএনপি

সাহস করে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, জনগণ সজাগ দৃষ্টি রাখবে যাতে কেউ ভোটের আগের রাতে ভোট দিতে না পারে, জাল ভোট দিতে না পারে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ভোটারদের ভীতসন্ত্রস্ত কিংবা ভোটগ্রহণ বিলম্বিত করতে না পারে। গতকাল গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রাতে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

জনগণ ভোট দিতে পারলে ঐক্যফ্রন্ট বিজয়ী হবে উল্লেখ করে প্রার্থী ও এজেন্টদের উদ্দেশে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আপনারা শান্তিপূর্ণ এবং সাহসিকতার সঙ্গে এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। কেন্দ্রীয় অফিসের সঙ্গে আপনারা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবেন এবং সজাগ দৃষ্টি রাখবেন। এজেন্টদেরও সাহসী হতে হবে। ভোটগ্রহণের আগে দেখে নেবেন ভোটের বাক্স খালি আছে কিনা? আর ভোটগ্রহণ শেষে, ভোট গণনা করে কে কত ভোট পেল সেটি নিশ্চিত না হয়ে কোনো সাদা কাগজে সই করবেন না। কোনো অবস্থাতেই প্রিসাইডিং অফিসারের সই ছাড়া সই করবেন না।’

তিনি আরো বলেন, ‘অনেক চেষ্টা করা হবে আমাদের পরাজিত করতে। কিন্তু নেতাকর্মী ও জনগণ তত্পর থাকলে সেটা সফল হবে না। আমরা আশা করব, সবাই সাহস করে ভোটকেন্দ্রে যাবেন, নিজের ভোট নিজে দেবেন।’

সারাদেশে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছে এবং গ্রেফতার করা হচ্ছে উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘একটু আগে গোলাম মাওলা রনির ওপর হামলা হয়েছে, তিনি গুরুতর আহত। নিতাই রায় চৌধুরীর ওপর হামলা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর ঐক্যফ্রন্টের ১০ হাজারের ওপর নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে অনেক প্রার্থীও আছেন । হামলায় আহত হয়েছে ১৩ হাজার নেতাকর্মী।

তিনি অভিযোগ করেন, এখনও সরকারি দল পুলিশ পাহারায় প্রচারণা চালাচ্ছে। অথচ এটি নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। এমনকি শোনা যাচ্ছে, আজ (শনিবার) বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে সরকার প্রধানের একটা অনুষ্ঠান পুনঃপ্রচার করা হবে। এছাড়া একটি টিভি চ্যানেল প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়ের একটা বিশেষ সাক্ষাত্কার প্রচার করবে, যা নির্বাচনী আচণবিধির লঙ্ঘন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- দলের ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।