নির্ধারিত সময়ে বেতন পাচ্ছেন না সব গার্মেন্টস শ্রমিক

আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে গার্মেন্টসসহ সব ধরনের শিল্প-কারখানায় বেতন পরিশোধের জন্য সরকারের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া রয়েছে।  তবে অন্যতম বড়ো শ্রমঘন শিল্পখাত গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা নির্ধারিত সময়ে তাদের বেতন পাচ্ছে  না। খোদ পোশাক শিল্প-মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি জানিয়েছেন,  তাদের সদস্যভুক্ত সব কারখানা আজকের মধ্যে বেতন পরিশোধ করতে পারছে না। আগামী ২০ তারিখ নাগাদ পরিশোধ হবে বলে আশা করছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল বুধবার নাগাদ বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত কারখানার মধ্যে মাত্র অর্ধেক কারখানা বেতন দিতে পেরেছে। এর বাইরে শিল্প মালিকদের আরেক সংগঠন বিকেএমইএর অর্ধেক কারখনাও বেতন দিতে পারেনি। আর এ দুটি সংগঠনের সদস্য নয়, এমন কারখানার পরিস্থিতি আরো খারাপ।

এদিকে পাওনা পরিশোধ না হলেও অনেক কারখানা লে-অফের (সাময়িক বন্ধ) নোটিশ টানিয়ে দিয়েছে।  বিজিএমইএও লে-অফ করার বিষয়টি শ্রম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানিয়েছে।   শ্রমিকদের এ পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়ার জন্য মালিকদের      দায়ী করেছেন গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার। গতকাল ইত্তেফাককে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে।  করোনার মহামারির মধ্যেও শ্রমিকদের বেতন দিচ্ছে না। বেতনের জন্য ডেকে এনে লে-অফের নোটিশ ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।  দায়ী কারখানা মালিকদের শাস্তি দাবি করে তিনি বলেন, ৫ হাজার কোটি টাকা পাওয়ার পরও তারা সন্তুষ্ট নন। আরো বড়ো কিছু আদায়ের চেষ্টা করছেন।

সূত্র জানিয়েছে,  বর্তমানে বিজিএমইএ,  বিকেএমইএর সদস্য ও অন্যান্য মিলে চালু গার্মেন্টস কারখানার সংখ্যা সাড়ে তিন হাজারের ওপরে।

বিজিএমইএর দাবি, তাদের সদস্যভুক্ত বেশির ভাগ বড়ো কারখানা বেতন পরিশোধ করেছে।  গতকাল নাগাদ ৭৮ শতাংশ শ্রমিক বেতন পেয়েছে।  এর বাইরে অপেক্ষাকৃত ছোটো কারখানার বেশির ভাগই এখনো বেতন দেয়নি।

এদিকে নির্ধারিত সময়ে বেতন পরিশোধে ব্যর্থ কারখানা মালিকদের লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়েছে শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই)। এ লক্ষ্যে কারখানার তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

অন্যদিকে গতকাল ডিআইএফইকে পাঠানো এক চিঠিতে কারখানা লে-অফ করার বিষয়টি অবহিত করেছে বিজিএমইএ।