চট্টগ্রামে টিসিবির পণ্য কিনতে দীর্ঘ লাইন

চট্টগ্রামে টিসিবির পণ্য বিক্রির ট্রাকগুলোতে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন। মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে পণ্য। তবে টিসিবির আইটেমে চাল না থাকায় ক্রেতারা ফেরত যাচ্ছে। ক্রেতারা চাল বিক্রির দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে টিসিবি খোলাবাজারে ডিলারদের মাধ্যমে চিনি, তেল, ছোলা ও মসুর ডাল বিক্রি করছে।

টিসিবি জানায়, তারা ডিলারদের মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২৩টি ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি করছে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়েও ডিলারদের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এক জন ডিলারকে দৈনিক ১ হাজার কেজি চিনি, ১৫০ কেজি মসুর ডাল, ১ হাজার লিটার সয়াবিন ও ৮০০ কেজি ছোলা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। দাম রাখা হচ্ছে চিনি কেজি ৫০ টাকা, মসুর ডাল কেজি ৫০ টাকা, ছোলা ৬০ টাকা ও সয়াবিন লিটার ৮০ টাকা। বাজারের চেয়ে টিসিবির পণ্যের মূল্য কিছুটা কম হওয়ায় চাহিদা বেড়েছে। ফলে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ক্রেতাদেরকে পণ্য কিনতে দেখা যাচ্ছে।

নগরীর কাপ্তাই রাস্তার মাথায় ট্রাকে করে টিসিবির পণ্য বিক্রি করছেন ডিলার দিদারুল আলম। তিনি বলেন,  ‘টিসিবির পণ্যের গুণগত মান অনেক উন্নত। দামও ক্রেতাদের সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। ফলে বেশ চাহিদা রয়েছে। আমি দৈনিক যা বরাদ্দ পাই তা বিক্রি হয়ে যায়। তবে ক্রেতারা                 চান চাল। তারা চাল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ডিলার আবদুস ছবুর ট্রাকে করে জামাল খান এলাকায় টিসিবির পণ্য বিক্রি করেন। তিনি বলেন, বরাদ্দপ্রাপ্ত পণ্য বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। বরাদ্দ আরো বাড়ানো প্রয়োজন। মসুর ডাল বরাদ্দ কম থাকায় ক্রেতারা চাহিদা অনুপাতে পাচ্ছে না। চালের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও বরাদ্দ না থাকায় ক্রেতারা ফেরত যাচ্ছে।’

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) চট্টগ্রাম কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, চাল খাদ্য বিভাগের বিষয় হওয়ায় আমরা চাল বিক্রি করতে পারি না। চট্টগ্রাম মহানগরীতে দৈনিক ২৩টি থেকে বাড়িয়ে ২৫টি ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি হবে। কিছুদিন পর টিসিবির বহরে খেজুর ও পেঁয়াজ যুক্ত হবে। আমাদের কাছে খেজুর এসেছে। চট্টগ্রামের সাতটি উপজেলায় টিসিবির পণ্য সীমিত আকারে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি উপজেলায় একটি করে ট্রাকে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। আগামী ২০ মে পর্যন্ত টিসিবির ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির কার্যক্রম চালু থাকবে।’

এদিকে লকডাউনের কারণে কর্মহীন মানুষ চরম অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছে। সরকার ১০ টাকা মূল্যে ওএমএস চাল বিক্রির কার্যক্রম স্থগিত করায় কর্মহীন দরিদ্র মানুষ আরো বিপাকে পড়েছে। কাজ নেই কর্ম নেই বসে বসে অলস সময় কাটাচ্ছে হতদরিদ্র মানুষ। বিত্তশালীরা যেসব সাহায্য প্রদান করছে তা মানুষের দৈনন্দিন চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। শহরে দেখা যাচ্ছে প্রশাসনের কঠোর নজরধারীর মধ্যেও দরিদ্র মানুষ পেটের তাগিদে রিকশা, ভ্যান নিয়ে মৌসুমি ফল, তরিতরকারি বিক্রি করতে নেমেছে। দিনের বেলায় রিকশা চলাচল বেড়েই চলেছে। যারা সিএনসি অটোরিকশা চালাতেন তারা এখন রিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন।