সখীপুরে জঙ্গলে ফেলে যাওয়া সেই মা (৫০) করোনায় আক্রান্ত নয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুস সোবহান। গতকাল বুধবার চিকিত্সকদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, জঙ্গলের ভেতর থেকে উদ্ধার করা ঐ নারীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষা করা হলে তার করোনা শনাক্ত হয়নি। ঐ নারীকে কয়েক দিন পর আবারও পরীক্ষা করা হবে। ঐ নারী আইসোলেশন বিভাগে ভর্তি রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, সোমবার গভীর রাতে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের ইছাদিঘী গ্রামের এক জঙ্গল থেকে ঐ নারীকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ চিকিত্সার জন্য ঢাকায় পাঠায়। গজারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মান্না মিঞা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ জানান, জঙ্গলে অপরিচিত ঐ নারীর চিত্কার শুনে বিষয়টি ইউএনওকে জানানো হয়। ইউএনও আসমাউল হুসনা লিজা বলেন, পুলিশ সদস্য ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঐ নারীর পরিচয় জানি। ঐ নারীর বাড়ি শেরপুর জেলার নালিতা বাড়ি উপজেলায়। তার সন্তান-স্বজনরা রাতে করোনা সন্দেহে তাকে শাল-গজারির বনে ফেলে রেখে সকালে বাড়ি নিবে বলে আশ্বাস দিয়ে পালিয়ে যায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সক মাসুদ রানা জানান, গাজীপুরের সালনায় একটি পোশাক কারখানায় ঐ নারীর এক ছেলে, দুই মেয়ে ও জামাতারা চাকরি করেন। সালনায় একটি ভাড়া বাসায় তারা থাকেন। তাদের তিনি রান্না করে খাওয়াতেন। কয়েক দিন ধরে ঐ নারীর জ্বর-সর্দি, শ্বাসকষ্ট, গলাব্যথা ও কাশি শুরু হলে আশপাশের বসতিরা তাদের তাড়িয়ে দেন। একটি পিকআপভ্যান ভাড়া করে নালিতা বাড়ি যাওয়ার পথে রাতে সখীপুরে একটি শাল-গজারির বনে ঐ নারীকে ফেলে সন্তানেরা পালিয়ে যায়।