বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ (করোনা ভাইরাস) এর সংক্রমণজনিত পরিস্থিতিতে অসহায় দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্বেচ্ছাসেবী বেসরকারি সংস্থাগুলোকে (এনজিও) এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রত্যেক এনজিওকে কমপক্ষে দুটি পরিবারের নিয়মিত খাদ্য সরবরাহসহ অন্যান্য দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন অধিদপ্তর মহাপরিচালক শেখ রফিকুল ইসলাম। এনজিওগুলোর প্রধান নির্বাহীদের উদ্দেশে সম্প্রতি পাঠানো এক চিঠিতে এই অনুরোধ জানানো হয়।
অধিদপ্তরের গত ৪ এপ্রিলের সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার পর সকল এনজিওর সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক (প্রধান নির্বাহী) বরাবর এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শেখ রফিকুল ইসলাম।
দেশে বর্তমানে সমাজসেবা অধিদপ্তর হতে নিবন্ধনপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনের সংখ্যা ৫৬ হাজার উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে প্রতিদিন অন্তত এক লাখ ১২ হাজার পরিবার উপকারভোগী হবে।
প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণ ঠেকাতে দেশ জুড়ে সামাজিক বিচ্ছিন্নকরণ (ঘরে থাকা) ও দেশের সিংহভাগ এলাকা লকডাউনের আওতায় আনার ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এতে সারাদেশে শ্রমজীবীসহ নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর মাঝে দেখা দিয়েছে মারাত্মক খাদ্যাভাব।
চিঠিতে বলা হয়, একদিকে করোনা-ভীতি আর অন্যদিকে জীবিকার তাগিদ। এ ধরনের মানুষের সংখ্যা অনেক। বৃহত্তর জনস্বার্থে ঘরে থাকা যেমন তাদের দায়িত্ব, তেমনি আমাদেরও দায়িত্ব হচ্ছে তাদেরকে ঘরে রাখার ব্যবস্থা করা। তাদেরকে ঘরে রাখতে হলে তাদের কাছে জীবন ধারণের ন্যূনতম সামগ্রী পৌঁছে দিতে হবে।
সমাজসেবা অধিদপ্তর হতে নিবন্ধিত সেবামূলক সংগঠনের সংখ্যা ৫৬ হাজার। প্রতিটি সংগঠনের পক্ষ হতে দিনে দুটি পরিবারের কাছে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হলে প্রতিদিন ১ লাখ ১২ হাজার পরিবার উপকৃত হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।