দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ার-ম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, যে বা যারা ডাক্তার-নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিচ্ছেন প্রয়োজনে দুদক তাদের বাড়ি নির্মাণের অর্থের উত্স খুঁজে দেখবে। গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে টেলিফোনে দুদক চেয়ারম্যান একথা বলেন।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, জাতির এই সংকটময় সময়ে ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ডবয় এবং অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা জীবনের মায়া ত্যাগ করে মানুষের সেবায় নিয়োজিত। এদের সঙ্গে খারাপ আচরণ কিংবা কোনো প্রকার অসম্মান করা আইনগতভাবেই অপরাধ। তিনি বলেন, দেশে বিদ্যমান সংক্রামক রোগ আইন, ২০০১৮ অনুসারে এ জাতীয় আচরণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমরা বিশ্বাস করি—কেউ যদি এই আইনের লঙ্ঘন করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এর পরও যদি কোনো বাড়ির মালিক স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত কোনো ব্যক্তিকে বাড়ি ছাড়ার কথা বলেন বা বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করেন, তাহলে দুদক আইন অনুযায়ী এসব বাড়ি নির্মাণের অর্থের উত্স খুঁজে দেখবে। অবৈধ সম্পদের উত্স পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে।
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এক চিকিত্সকের নোটিশ
এদিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিত্সার লক্ষ্যে এডহকভিত্তিতে চিকিত্সক নিয়োগ এবং চিকিত্সক-স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে বাড়ি মালিকদের অমানবিক আচরণ বন্ধে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ইমেইলযোগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, আইন সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিব বরাবরে নোটিশ পাঠানো হয়। ঢাকার একটি হাসপাতালের চিকিত্সক ডা. মো. ওবায়দুর রহমানের পক্ষে গতকাল এই নোটিশ দেন অ্যাডভোকেট তানজিম আল ইসলাম।
নোটিশে বলা হয়, পত্র পত্রিকা মারফত জানা যাচ্ছে একদল বাড়িওয়ালা বর্তমান পরিস্থিতিতে চিকিত্সক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বাসা ছেড়ে দেওয়ার মতো অযৌক্তিক এবং অমানবিক নির্দেশ প্রদান করছে। এমনকি তাদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার পর্যন্ত করছেন যা তাদেরকে মানসিকভাবে দুশ্চিন্তার মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চিকিত্সক ও স্বাস্থ্যকর্মীর চিকিত্সাসেবা পেতে হলে তাদেরকে মানসিকভাবে নির্ভর রাখাটাও জরুরি।
নোটিশে বলা হয়, গত ১৫ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রথম একজন চিকিত্সকের মৃত্যু হয়। সরকারের পক্ষ থেকে আক্রান্ত চিকিত্সক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিমার আওতায় আনার কথা বললেও তা কোন আইন বা নীতিমালার অধীন কীভাবে বাস্তবায়ন হবে এখন পর্যন্ত কেউ জানে না। তাই এক্ষেত্রে চিকিত্সক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থে একটি সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। এতে
নোটিশে আরো বলা হয়, চিকিত্সক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট অত্যন্ত দরকার। সবার আগে সরকারের এদিকে নজর দেওয়া দরকার বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।