বেতন শোধে ব্যর্থ কারখানার লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ

গতকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে সব ধরনের শিল্প কারখানায় বেতন পরিশোধের নির্দেশনা থাকলেও এক-তৃতীয়াংশই ব্যর্থ হয়েছে। এ তালিকায় গার্মেন্টস কারখানার পাশাপাশি অন্যান্য খাতের শিল্প কারখানাও রয়েছে। বেতন পরিশোধে ব্যর্থ কারখানার তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই)। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আলী আজম ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, বেতন পরিশোধ না করা কারখানা মালিকের বিরুদ্ধে শ্রম আইন অনুযায়ী মামলা হবে। এছাড়া আগামী জুনে তাদের লাইসেন্স নবায়ন হবে না। ফলে কারখানাগুলোর পক্ষে পরবর্তীতে উত্পাদন কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। এসব কারখানার তালিকা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছেও পাঠানো হবে। যাতে করে কারখানার শ্রমিকরা প্রণোদনার অর্থ পেতে পারে।

শিল্পাঞ্চল পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, তাদের আওতাধীন এলাকায় শিল্প কারখানার সংখ্যা ৭ হাজার ৬০২টি। এর মধ্যে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএর সদস্যভুক্ত কারখানা ছাড়াও রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (বেপজা) কারখানা এবং অন্যান্য খাতের কারখানাও রয়েছে। গতকাল পর্যন্ত গার্মেন্টস ও বস্ত্র খাতের তিনটি সংগঠনের সদস্য এবং বেপজা এলাকার ৩ হাজার ৮৯৩টি কারখানার মধ্যে বেতন পরিশোধ করেছে ২ হাজার ৭০২টি। বিজিএমইএর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংগঠনটির সদস্যভুক্ত কারখানার মধ্যে বর্তমানে চালু রয়েছে ২ হাজার ২৭৪টি কারখানা। সংগঠনের সভাপতি ড. রুবানা হক ইত্তেফাককে বলেন, এর মধ্যে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৭০০ কারখানা শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেছে। বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত কারখানার ৮৭ শতাংশ শ্রমিক বেতন পেয়েছে।

অন্যদিকে বিকেএমইএর বর্তমানে চালু ৮৩৩টি কারখানার মধ্যে প্রায় ৫০০টি বেতন পরিশোধ করেছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। বেতন পরিশোধে ব্যর্থ কারখানার বিষয়ে ডিআইএফইর সিদ্ধান্তের বিষয়ে রুবানা হক বলেন, যারা সময়মতো দিতে পারছে না, তারা অপেক্ষাকৃত ছোটো কারখানা। তারা এমনিতেই মারা যাচ্ছে। তারা কেন দিতে পারেনি, তা মনযোগ দিয়ে দেখা দরকার, পাশে দাঁড়ানো দরকার। কিন্তু অনড় থাকায় মঙ্গল বয়ে আনবে না। কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তারা অভিভাবকহীন হয়ে পড়বে। ফলে নতুন করে ৩-৪ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, আগামী ২৫ তারিখের মধ্যে বাদবাকি কারখানাও বেতন পরিশোধ করতে পারবে বলে আশা করছি।