করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে দেশের বিভিন্ন জনপদে চলছে স্বপ্রনোদিত ’লকড ডাউন’। মানুষের ঝাঁড় থেকে গাছ-বাঁশ কেটে গ্রাম-গঞ্জের রাস্তা-ঘাট-অলি-গলি অবরুদ্ধ করে দিচ্ছেন স্থানীয় এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ। প্রশাসনকে না জানিয়ে এই ধরনের প্রতিবন্ধকতার উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিতর্কের সৃস্টি হয়েছে। কর্মবিমূখ হয়ে পড়া দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের ত্রান লুটপাটের জন্য কোথাও কোথাও ব্যাবহার করা হচ্ছে ’লকড ডাউন’ অপকৌশল। স্থানীয় কিছু অসাধু জনপ্রতিনিধি বিভিন্ন গ্রাম-ইউনয়নের রাস্তাঘাট বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দিচ্ছে। অত:পর সরকারি মহলে দেনদরবার করে বেশি বেশি ত্রান সংগ্রহ করে তা মেরে দিচ্ছেন বলে বিস্তার অভিযোগ আসছে। বিশেষ করে নোয়াখালী, সেনবাগ, কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট, বেগমগঞ্জ, সুবর্নচর, হাতিয়া, চৌমুহনী, ফেনী, পাবনা, চাটমোহর, সীতাকুন্ড, রাউজান, গোসাইরহাট, পটুয়াখালির মির্জাগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রাজশাহীর বাঘা, গোদাগাড়ি, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর, বাগেরহাটের রামপাল, ঠাকুরগাওয়ের জগন্নাথপুর, ফরিদপুরের বিভিন্ন থানাসহ দেশের প্রায় অধিকাংশ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও পাড়া মহল্লা থেকে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই লকড ডাউনকে ত্রান ও অর্থ লোপাটের মওকা হিসেবে গ্রহণ করছেন কোন কোন জনপ্রতিনিধি। তাদের এই কথিত লকড ডাউনে পড়ে কঠিন অবস্থায় পড়ছে অনেকে। না খেয়ে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে হত দরিদ্রদের। বাস্তবে কোন সাহায্য তাদের কাছে পৌছাচ্ছে না। কেবল তাই নয়, বিভিন্ন সড়ক ও পথে বেঞ্চ রেখে, বাঁশ বেঁধে, কাঠের গুঁড়ি ফেলে লকড ডাউন দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারি মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তুলছে। গাড়ি থেকে খরচাপাতির টাকা আদায় করছে। একটা ভ্যান গেলেও তার চালকের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে। অনেকের অভিযোগ, এই বাঁশের প্রতিবন্ধকতাকে চাঁদাবাজির নতুন অনুসঙ্গ বানিয়ে নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গাজিপুরের এক ব্যাক্তি লিখেছেন: ’তাদের এলাকায় গাছের গুড়ি-বাঁশ দিয়ে ব্যরিকেড দিয়ে লকড ডাউন লেখা কাগজ সাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বেঞ্চ নিয়ে বসে আছে একটি দলের লোকজন। টাকা দিয়ে ইন-আউট হতে হয়। লকড ডাউনের কথা বলে সরকারের কাছ থেকে বেশি করে ত্রান এনে তা নিজেরাই ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছে।’ নোয়াখালীর একজন লিখেছেন: ’বাঙ্গালি আর যাই পারুক না পারুক, কোন সময় ধান্দা করতে হবে ওইটা যতেষ্ট জানে। কাল এক ভ্যানগাড়ি (তরকারি) ওয়ালাকে বলতে শুনলাম, বিভিন্ন গলিতে বাঁশ থাকায় ১৫০ টাকার বেশি খরচ হয়েছে।
এদিকে পুলিশ ইতিমধ্যে দেশের বহু জায়গায় অভিযান চালিয়ে করোনাকে উপলক্ষ করে এই ধরনের দুর্নীতিপরায়নতার হদিস পেয়েছে। কোথাও কোথাও বাঁশ দিয়ে পথরোধ করে পাড়া লকড ডাউন করা হয়েছে কিন্তু ভেতরে দোকান খোলা রেখে চলছে বেচাকেনা, আড্ডা। চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় বুধবার জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় পতেঙ্গা থানার কাটগড় এলাকায় এরকম তিনটি গলির সন্ধান মেলে।