ভাণ্ডারিয়ায় জিআরের চাল আত্মসাতের ঘটনা তদন্ত করছে দুদক

জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় কর্মহীন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের অসহায় লোকজনের মধ্যে বরাদ্ধকৃত জিআর-এর চাল আত্মসাতের ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে দুদক। দুদকের বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি দল আজ শুক্রবার ঘটনা সরেজমিনে তদন্তে আসছে বলে জানা গেছে। একজন সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে এ দল ঘটনাস্থলে তথ্য অনুসন্ধান করবে।

দুদকের বরিশালের উপ-পরিচালক ইতিমধ্যে ভান্ডারিয়ার ইউএনও ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে ঘটনা সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছেন বলে বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে। এদিকে ইকড়ির চাল আত্মসাতের ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় একটি রাজনৈতিক মহল মাঠে নেমেছে যারা প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের করোনা প্রতিরোধের গৃহীত পদক্ষেপকে বিনষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

ওই ঘটনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের তথ্যদাতা ইকড়ি ইউনিয়নের বোথলা গ্রামের বাসিন্দা সাইদুল খলিফা এ প্রতিবেদকের কাছে মোবাইল ফোনে জানান, তিনি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার দিন রাতে ভান্ডারিয়া থানার একজন সাব-ইন্সপেক্টর তাকে লাঠিপেটা করায় তিনি পায়ে জখমসহ শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে গা ঢাকা দিয়ে আছেন। প্রাণভয়ে তিনি এ ঘটনা উপরস্থ কাউকে জানাতে পারছেন না।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ইকড়ি ইউনিয়নের তিনজন ইউপি সদস্য মো. মওদুদ আহমেদ লাভলু, রফিকুল ইসলাম ও শিশির হালদার এবং ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগী খোকন সিকদারের ৬শ কেজি জিআর এর চাল আত্মসাতের সাথে সংশ্লিষ্টতার খবর জানাজানি হয়। এরপর ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে জানা যায়।

এ বিষয়ে ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুল আলম বলেন, অভিযোগ পেয়ে একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ম্যাজিষ্ট্রেট ঘটনা সম্পর্কে তাত্ক্ষনিকভাবে কোনো প্রমান বা আলামত না পেয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন নি।

এ ঘটনায় দুদকের তদন্ত বিষয়ে ইউএনও বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক দেবব্রত মন্ডল ফোনে তাঁর কাছে জানতে চান। তিনি এর জবাবে খবর পেয়ে ম্যাজিষ্ট্রেট পাঠানোর কথা বলেন।

এ ব্যাপারে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ইউএনও তাঁর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে ঘটনাস্থলে একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পাঠান। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনো ধরনের সাক্ষ্য প্রমান না পাওয়ায় কোনো মামলা করা যায় নি। দুদকের তদন্ত সম্পর্কে জেলা প্রশাসক বলেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন।