হয়তো সুসংবাদ দুয়ারে..

মীর আব্দুল আলীম

বিশ্ব বহুবার সভ্যতা ও শান্তির সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। কখনো যুদ্ধ, কখনো ঝড়-ঝাপটা, মহামারি, ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস উতরেই এগিয়ে চলেছি আমরা। বসন্ত, ম্যালেরিয়া, ডায়েরিয়া, প্লেগ, উলাওঠা, ডেঙ্গু, মার্স, সার্স আরো কত রকম রোগ-শোকে বিশ্বের একেক অঞ্চল একেক সময় উজাড় হয়েছে; ভীত হয়েছে জনপদ। অনেকবার অনেক কিছুতেই শঙ্কিত হতে হয়েছে আমাদের। সংকট আসে; সংকট আবার চলেও যায়। কষ্টগুলো বহুদিন ধরে আঁকড়ে থাকে না। কিছুটা ভোগায়; কটা জীবন কেড়ে নেয়। আবার শান্তি ফিরে আসে। এইতো চলছে দুনিয়া জুড়ে। করোনা সংকটে শত ভয়ের মধ্যেও অনেক সুখবর কানে আসে। আশা জাগে মনে। এরই মধ্যে করোনা কোভিড-১৯-এর ওষুধ, ভ্যাকসিন আবিষ্কারের খবর পাচ্ছি আমরা। তবে এদের কেউ এখনও ওষুধ আবিষ্কারে পূর্ণতা পায়নি। পরীক্ষামূলক ব্যবহার চলছে। এভাবেই হয়তো একদিন আমরা সুখবরটা পেয়ে যাব। এসময় পর্যন্ত আমাদের নিয়ম-কানুন মেনে ঘরে থাকতে হবে হয়তো। এখন চলছে করোনা ভাইরাসের ঝড়। অদৃশ্য করোনার ভয়ে কাঁপছে গোটা দুনিয়া। করোনা যেন আমাদের সুখ কেড়ে নিয়েছে। ভীতিকর অবস্থা সবখানে। বিশ্বের কোথাও যেন কোনো সুসংবাদ নেই। দুঃসংবাদ আর দুঃস্বপ্নে কাটছে সবার জীবন। এভাবে আর চলে না। আমাদের হাসতে হবে। নইলে আমরা যে অসুস্থ হয়ে যাব। নিদেনপক্ষে মনোরোগ পেয়ে বসবে আমাদের। এমন দুঃসময়ে সু-সংবাদও কিন্তু আছে অনেক। সেই সুখ-সংবাদগুলো হয়তো আমাদের আশা জাগাবে। করোনা ঝড় ঠিকই এক দিন থেমে যাবে। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের শান্তির দিন ফিরিয়ে দেবেনই এক দিন। এমন সুখস্বপ্ন আঁকি বুকে। আশায় থাকি সুদিনের। বিজ্ঞানের বিস্ময়কর উদ্ভাবনের এই সময়ে বিশ্বময় করোনা ভাইরাস নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে বটে! আবার করোনা ভ্যাকসিন কিংবা ওষুধ তৈরি নিয়ে বিশ্ব জুড়ে ব্যাপক আশারও সঞ্চার হয়েছে। যে গতিতে গবেষণা চলছে তাতে হয়তো করোনা ভাইরাসকেও জয় করতে সক্ষম হব আমরা। অনেক চিকিত্সাবিজ্ঞানী সফলতার দাঁড়প্রান্তে আছেন বলেও দাবি করছেন। সু-সংবাদ প্রাপ্তির সে সময়টা হয়তো অনেক দূরে নয়। বিশ্ববাসী আবার হয়তো ঘুড়ে দাঁড়াবে। করোনা যেমন বিজ্ঞান, অগ্রগতি, উদ্ভাবন, সব কিছুকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে; আবার সেই চ্যালেঞ্জর মুখোমুখি হয়ে আমাদের স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা এক দিন হয়তো আশার আলো দেখাবেন। আমরা সেই দিনের অপেক্ষাতেই রইলাম।

এদিকে ভরসার কথা শুনিয়েছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরাও। জানিয়েছেন, তারা করোনাকে ধ্বংস করার ভ্যাকসিন তৈরি করে ফেলেছেন। এখনই ভ্যাকসিন হাতে তুলে দেওয়া যাবে না ঠিকই, তবে কাজ অনেকটাই সাফল্যের দিকে। মানুষের ওপর এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্যও তৈরি তারা। তার জন্য নাম নিবন্ধনের প্রক্রিয়া চলছে। ট্রায়ালে অন্তত ৫০০ জনের ওপরে প্রয়োগ করা হবে এই ভ্যাকসিন। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল প্রায় শেষ। অক্সফোর্ড জানিয়েছে, সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও মহিলার ওপরে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে। ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সি এমন ৫১০ জনের স্ক্রিনিং চলছে। ইংল্যান্ডের থেমস ভ্যালিতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মানুষের ওপর ট্রায়াল চলবে এই ভ্যাকসিনের। দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় এমন সুখের খবর ছাপা হয়েছে। এমন দুঃসময়ে করোনার ভ্যাকসিন তৈরির সুখ-সংবাদগুলো বেশ আশা জাগায় মনে।

বাংলাদেশ এই মহামারি ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে যা প্রশংসার দাবি রাখে। করোনা আক্রান্ত দেশ চীন যদি বলে বাংলাদেশ ভালো আছে তাহলে তো তা ভালো খবরই বটে। এ কথা সত্য, বাংলাদেশের মানুষ অন্য যে কোনো দেশ থেকে এখনও ভালো আছে। মহামারিতে রূপ নেয়নি বাংলাদেশে। এটাতো সুখ-সংবাদই। তাছাড়া করোনায় অভিজ্ঞ চীন আমাদের এই সংকটে পাশে থাকবে এমন আশ্বাস সুখ জাগে মনে। আরো সুখ পাই করোনা পরবর্তী বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে চীন তাদের পাশে রাখবে এই সংবাদে। আমরা হয়তো ভুলে যাইনি, বিশ্ববাসী সাক্ষীও আছে বটে, বসন্ত, ম্যালেরিয়া, ডায়েরিয়া, প্লেগ এমন আরো কত রকম রোগ-শোকে বিশ্বের একেক অঞ্চল একেক সময় উজাড় হয়েছে, ভীত হয়েছে জনপদ। আমরা দেখেছি সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় সব ঝড় আবার থেমেও গেছে। পৃথিবী আবার স্বাভাবিক হয়েছে। সভ্যতার চরম বিকাশের এই একুশ শতকে বিশ্বময় মানব সভ্যতার জন্য যে উদ্বেগ, উত্কণ্ঠা এবং গভীর সংকট তৈরি করেছে করোনা ভাইরাস বা কোভিট-১৯, তা যেন নজিরবিহীন। এ ভাইরাসে বিশ্ব থমকে আছে। বিশ্বময় কাঁপিয়ে দিচ্ছে প্রাণবিধ্বংসী এই করোনা ভাইরাস। তবু হতাশ হলে চলবে না। করোনাকেও আমরা জয় করব এক দিন। সেই সুখ স্বপ্নই আমরা দেখি।

n লেখক : গবেষক