আপিল বিভাগের নির্দেশের পরও ক্ষতিপূরণ পায়নি রাজীবের দুই ভাই

দিদারুল আলম

দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগের নির্দেশের পরও এখন পর্যন্ত একটি টাকাও ক্ষতিপূরণ পাননি দুই বাসের রেষারেষিতে প্রাণ হারানো রাজীব হাসানের দুই ভাই। আপিল শুনানির পূর্বে স্বজন পরিবহনকে এক মাসের মধ্যে ১০ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত। কিন্তু ইতিমধ্যে ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো একটি টাকাও দেয়নি স্বজন পরিবহন কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে স্বজন পরিবহনের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম বাবুল ইত্তেফাককে জানান, আমরা ২ লাখ টাকা জোগাড় করেছি। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে ওই টাকাও দিতে পারছি না। ২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল কাওরানবাজার এলাকায় বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের দুটি বাসের রেষারেষিতে হাত হারান তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজিব হাসান। পরে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় দায়েরকৃত রিট মামলায় হাইকোর্ট রাজিবের দুই ভাইকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেয়। রায়ে বলা হয়, দুটি বাসের চালকের অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণেই ঐ দুর্ঘটনা ঘটে। এ কারণে ২৫ লাখ টাকা করে দুই পরিবহন কোম্পানিকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে ওই দুই পরিবহন সংস্থা। আপিল বিচারাধীন থাকাবস্থায় গত বছরের ১৩ অক্টোবর আপিল বিভাগ স্বজন পরিবহনকে এক মাসের মধ্যে ১০ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দেয়। কিন্তু ওই নির্দেশের পর এখন পর্যন্ত কোনো টাকা পায়নি রাজিবের দুই ভাই।

স্বজন পরিবহনের আইনজীবী জানান, কোম্পানির যারা মালিক ছিলেন তাদের বেশির ভাগই গাড়ি বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন কোম্পানির ৬/৭ জন পরিচালক রয়েছেন, যাদের আর্থিক সঙ্গতি রয়েছে তারা ২ লাখ টাকা জোগাড় করছেন। এখন তো সবকিছু বন্ধ। নইলে বাকি টাকা জোগাড় করার সব চেষ্টা অব্যাহত থাকত। তিনি বলেন, আদালত টাকা দেওয়ার জন্য আরো ছয় মাস সময় দিয়েছে।

বিআরটিসির আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান জানান, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিচারাধীন রয়েছে। আদালত খোলার পর হয়তো মামলাটির শুনানি হতে পারে।