জেলার ভাণ্ডারিয়ায় মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় জিআরের চাল আত্মসাত্ ঘটনায় দুদকের একটি দল গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে তদন্ত করেছে। কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় বরিশালের সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান এ তদন্তের নেতৃত্ব দেন।
এ সময় তারা ইকড়ি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে চাল বিতরণের মাস্টাররোল, চাল উত্তোলনের ডিও, স্লিপ ইত্যাদি কাগজপত্র যাচাই ও ফটোকপি সংগ্রহ করেন। তদন্তকালে ইউপি চেয়ারম্যানসহ কয়েক জন সদস্য, ইউপি সচিব ও গ্রামপুলিশদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।
তদন্তদল স্থানীয় বোথলা বাজারে সাইদুল খলিফা নামে চাল আত্মসাত্ ঘটনার তথ্যদাতার কাছ থেকে ঐদিন কী ঘটেছিল তার বিবরণ জানতে চান। সাইদুল এ সময় প্রকৃত ঘটনা দুদকের কাছে তুলে ধরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে এক পুলিশ সাব ইন্সপেক্টরের হাতে তার প্রহূত হওয়ার কাহিনী বর্ণনা করেন। দুদকের তদন্তদল এ ঘটনা প্রত্যক্ষকারী বোথলার জীবন কৃষ্ণের বাড়িতেও যান ও সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
এর আগে ভাণ্ডারিয়া থানায় কয়েক জন পুলিশ সদস্যকেও ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বরিশাল দুদকের তদন্ত দলটি ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম ও ইউএনও মো. নাজমুল আলমের সঙ্গেও মোবাইল ফোনে কথা বলেন। এছাড়া ত্রাণ বিভাগের উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলেন তারা।
এ বিষয়ে দুদকের সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান এই প্রতিনিধিকে বলেন, তারা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ইকড়ি ইউনিয়নের সাম্প্রতিক ত্রাণের চাল আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করতে এসেছেন। তদন্তকালে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে পাওয়া প্রমাণ সম্পর্কে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
এ দিকে ইকড়ি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আতরখালী গ্রামের বাসিন্দা চায়ের দোকানদার মিজান ও প্রতিবন্ধী সেলিম অভিযোগ করেন, তারা গত রবিবার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চাল আনতে গিয়ে ১০ কেজির বদলে সাত কেজি করে পেয়েছেন। একই এলাকার ভটভটি চালক মো. ফারুক অভিযোগ করেন, তিনিসহ সোহাগ নামে আরেক চায়ের দোকানদার স্লিপ পাওয়া সত্ত্বেও ইউপি অফিসে গিয়ে ত্রাণের চাল পাননি।
এ ব্যাপারে ঐ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নাসির মল্লিক চাল কম দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার ওয়ার্ডে স্লিপ পেয়েও চার জনকে চাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে তিনি ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে যোগাযোগ করেও কোনো সদুত্তর পাননি। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বোথলা গ্রামে ত্রাণের চাল আত্মসাতের ঘটনা তিনিও শুনেছেন।