দেশের সংসদীয় ইতিহাসে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত অধিবেশন বসতে যাচ্ছে আজ শনিবার। কেবল সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে আজ বিকাল ৫টায় চলতি একাদশ জাতীয় সংসদের ৭ম অধিবেশন বসছে। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ প্রকোপের কারণে অধিবেশনটি শেষ হতে পারে আজই। অধিবেশনটি হতে পারে বড়ো জোর এক ঘণ্টার।
সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের এক অধিবেশন থেকে আরেক অধিবেশনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের বেশি বিরতি দেওয়ার সুযোগ নেই। এই সংসদের সর্বশেষ (ষষ্ঠ) অধিবেশন শেষ হয়েছিল ১৮ ফেব্রুয়ারি। সেই হিসেবে ১৮ এপ্রিলের মধ্যেই সংসদের অধিবেশন শুরুর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। শুধু সাংবিধানিক এই বাধ্যবাধকতার কারণেই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের মহামারির মধ্যেই রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ গত ৬ এপ্রিল এই অধিবেশন ডেকেছেন। তবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করেই অধিবেশন আয়োজনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে সংসদ সচিবালয়। মুজিববর্ষ উপলক্ষে সংসদের বিশেষ অধিবেশন বসার কথা ছিল গত ২২ মার্চ। করোনা ভাইরাসের প্রকোপের কারণে সেই অধিবেশনও বাতিল করা হয়।
স্পিকার শিরীন শারমিন ইত্তেফাককে জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবারের অধিবেশনে এমপিদের আসনও পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রেখে আসন ঠিক করা হবে। অধিবেশনকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবনে যেন লোকজনের ভিড় না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা হবে। এজন্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে যেন তাদের পিএস, এপিএস বা ব্যক্তিগত কোনো সহকারী না আসেন সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। দর্শক একেবারেই অ্যালাউ করা হচ্ছে না।
স্পিকার আরো জানান, অধিবেশন চালানোর জন্য যে কয়জনকে না হলেই নয়—ঠিক ততসংখ্যক লোকজনের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হচ্ছে। এজন্য এবার সরকারি কর্মকর্তাদেরও সংশ্লিষ্ট সবাই উপস্থিত থাকছেন না। গণপূর্তেরও শুধু অপরিহার্য সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকবেন। সাউন্ড সিস্টেম ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও উপস্থিতি সীমিত করা হবে।