নতুন করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৬ লাখ ৫৪ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের। দেশটিতে ২ কোটি মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় অঙ্গরাজ্যগুলোতে অর্থনীতি পুনরায় চালু করার বিষয়ে গভর্নরদের দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘ওপেনিং আপ আমেরিকা এগেইন’ শীর্ষক ঐ নির্দেশনায় তিন পর্যায়ের রূপরেখা তুলে ধরেছেন তিনি। যদিও মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি নতুন নির্দেশনাকে অস্পষ্ট ও অসংগত বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এসব নির্দেশনা বিজ্ঞানীদের পরামর্শ উপেক্ষা করার পাশাপাশি দ্রুত করোনা শনাক্তের পরীক্ষা চালাতে প্রেসিডেন্ট যে ব্যর্থ হয়েছেন, সেটিই ফুটিয়ে তুলেছে। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।
বৃহস্পতিবার নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, এই যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ হলো—আমেরিকার লকডাউন তুলে দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্র মুক্ত থাকতে চায় এবং মার্কিনিরাও মুক্ত থাকতে চান। তার মতে একটি জাতীয় অবরোধ কোনো দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নয়। লকডাউনের কারণে জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। মাদকের অপব্যবহার, হূদেরাগ এবং অন্যান্য শারীরিক ও মানসিক সমস্যা অনেক বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি।
ট্রাম্প প্রশাসনের ১৮ পৃষ্ঠার দিক-নির্দেশনায় রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি পুনরায় চালু করার জন্য তিনটি পর্যায়ে বিভিন্ন পদক্ষেপের বিবরণ দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি পর্যায় কমপক্ষে ১৪ দিন স্থায়ী হবে। তিনটি ধাপে কিছু সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্ব, করোনার পরীক্ষা এবং কন্টাক্ট ট্রেসিং অর্থাত্ আক্রান্ত কারো সংস্পর্শে কেউ এসেছিলেন কি না সেটা নিশ্চিত করা।
প্রথম পর্যায়ে, বর্তমান লকডাউন ব্যবস্থায় কিছু কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেমন—খুব প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ এড়িয়ে যাওয়া এবং ভিড় না করা। সেখানে বলা হয়েছে যে রেস্তোরাঁ, উপাসনালয় এবং খেলার মাঠের মতো বড়ো জায়গাগুলো সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে পরিচালিত হতে পারে।
করোনা ভাইরাস পুনরায় দেখা দেওয়ার কোনো আশঙ্কা না থাকলে, দ্বিতীয় পর্যায়ের পদক্ষেপগুলো নেওয়া হবে। এ সময় লোকজন অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ পুনরায় শুরু করতে পারবেন। নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে দ্বিতীয় পর্যায়ে স্কুল খুলে দেওয়া হতে পারে এবং পানশালাগুলো সীমিত আকারে চালু হতে পারে। তৃতীয় পর্যায়ে, শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে কর্মক্ষেত্রে মানুষের যোগাযোগ রাখার বিষয়টিকে অনুমোদন দেওয়া হবে। এছাড়া বয়স্কদের কেয়ার হোম এবং হাসপাতালগুলোয় দর্শনার্থীদের আসা পুনরায় শুরু করা হতে পারে এবং পানশালাগুলো পুরোপুরি চালু হতে পারে। এক মাসব্যাপী মূল্যায়নের পরে কয়েকটি অঞ্চল খুব শিগিগরই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, সুস্থ নাগরিকরা এমন পরিস্থিতিতে কাজে ফিরতে পারবেন। সামাজিক দূরত্বের বজায় রাখা এবং অসুস্থ হলে বাড়িতে থাকার আহ্বান জানানো হবে। হোয়াইট হাউজের করোনা ভাইরাস টাস্কফোর্সের কো-অর্ডিনেটর ড. ডেবোরাহ বার্কস বৃহস্পতিবার ব্রিফিংয়ে বলেন, যে রাজ্যগুলো তিনটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে কাজ করেছে, তারা কর্মচারীদের বেতন বাড়িয়ে তাদেরকে কাজে ফিরিয়ে নিতে পারবে। তিনি বলেন, তৃতীয় ধাপেও মানুষকে কিছু পরামর্শ মেনে চলতে হবে যেমন—অসুস্থ মানুষ যেন লোকজনের ভিড় এড়িয়ে চলে।
লকডাউন শিথিল করার সময়সীমা এবং ব্যবসা পুনরায় চালু করা নিয়ে ইতিমধ্যে গভর্নরদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ট্রাম্প। ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প গভর্নরদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা নিজেরা নিজেদের সিদ্ধান্ত নেবেন। কারণ আপনারাই রাজ্য পরিচালনা করবেন, আমরা আপনাকে সহায়তা করব। তবে কিছু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং রাজ্য গভর্নর খুব শিগিগরই অর্থনীতি আবার চালু করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
নিউ ইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো বলেছেন, তার রাজ্য ১৫ মে পর্যন্ত ঘরে থাকার নির্দেশনার অধীনে থাকবে। তবে মিশিগান, ওহাইও, উইসকনসিন, মিনেসোটা, ইলিনয়, ইন্ডিয়ানা এবং কেনটাকি রাজ্য গভর্নররা ঘোষণা করেছেন যে তারা এই অঞ্চলগুলো পুনরায় চালু করার জন্য একসঙ্গে কাজ করবেন। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তারা বলেন, অর্থনীতিকে আবার নিরাপদে চালু করতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যাতে পরিশ্রমী লোকেরা কাজে ফিরে যেতে পারেন। ব্যবসায়ীরা যেন তাদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন।