মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেও অসহায় আত্মসমর্পণ করলো বাংলাদেশের মেয়েরা। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে সালমা খাতুনের দল শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথডে হারে সাত উইকেটের বিশাল ব্যবধানে। এই নিয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ হারলো এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।
ইংলিশ মেয়েরা এদিন টস জিতে বাংলাদেশকে আগে ব্যাট করতে পাঠায়। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ৭৬ রান তোলে তারা। সর্বোচ্চ স্কোরার আয়েশা রহমান। ৫২ বলে ৩৯ রান করেন তিনি। ইনিংসে ছিল দুটি চার ও তিনটি ছক্কা। রুমানা আহমেদ ১০ ও জাহানারা আলম ১২ রান করে লড়াই করলেও দলের স্কোর বড় করতে পারেননি। বাংলাদেশকে পিছিয়ে দেয় টপ অর্ডারের ব্যাটাররা। শামীমা সুলতানা, ফারজানা হক ও নিগার সুলতানা— তিনজনের কেউই রানের খাতা খুলতে পারেননি।
জবাব দিতে নেমে ইংল্যান্ড রান ১৩ রানে দুই উইকেট হারায়। ৫১ রান তুলতে চলে যায় তিন উইকেট। কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি নামলে ইংলিশদের জয়ের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ১৬ ওভারে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৬৪। শেষ পর্যন্ত দলটির খেলতে হয় ৯.৩ ওভার। বৃষ্টি আইনে ৬৪ রান তুলে এর মধ্যেই জয় নিশ্চিত করে ফেলে দলটি। উইকেটরক্ষক ব্যাটার অ্যামি এলেন জোনস ২৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন।
নাটালি স্কাইভার ২৩ রান করেন। এছাড়া ১১ রান করে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক হিদার নাইট। বাংলাদেশের অধিনায়ক সালমা খাতুন তিন ওভার বল করে ১৭ রান দিয়ে দুই উইকেট নেন। অন্য উইকেটটি নেন খাদিজাতুল কুবরা। ইংল্যান্ডের হয়ে চার ওভার বল করে ১৬ রানসহ তিনটি উইকেট নেওয়া পেসার ক্রিস্টি গর্ডনের হাতে উঠেছে ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
আজই আবার মাঠে নামতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। রাত দুইটায় বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। ম্যাচটিকে সামনে রেখে দলের ব্যাটিং সমস্যার সমাধান চাইলেন অধিনায়ক সালমা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আবারো রানটাই আমাদের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করলো। আমাদের বোলিং নিয়ে আমার কোনো অসন্তোষ নেই। তবে, ব্যাটিংয়ে আসলেই উন্নতির কোনো বিকল্প নেই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচে জয়ের জন্য নিজেদের সেরাটা দিতে হবে আমাদের।’
‘এ’ গ্রুপে দিনের অপর খেলায় গতকাল ভোরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সাত উইকেটে হেরেছে শ্রীলঙ্কা। এই গ্রুপে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ১৯ নভেম্বর। সেদিন ভোরে সালমা-রুমানাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
টস: ইংল্যান্ড
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ৭৬/৯ (শামীমা ০, আয়েশা ৩৯, , ফারজানা ০, নিগার ০, রুমানা ১০, সানজিদা ০, লতা ৫, জাহানারা ১২, ফাহিমা ২, সালমা ৩*, কুবরা ২*; শিভার ১/৭, শ্রাবসোল ১/১৪, স্মিথ ১/১৭, গর্ডন ৩/১৬, এক্লেস্টোন ১/২০, সাইট ০/২)।
ইংল্যান্ড: (লক্ষ্য ১৬ ওভারে ৬৪) ৯.৩ ওভারে ৬৪/৩ (ওয়াইট ০, বিউমেন্ট ২, জোন্স ২৮*, স্কাইভার ২৩, নাইট ১১*; সালমা ৩-০-১৭-২, রুমানা ২.৩-০-২২-০, কুবরা ২-০-১৩-১, ফাহিমা ১-০-৯-০, জাহানারা ১-০-৩-০)।
ফল: ইংল্যান্ড ৭ উইকেটে জয়ী
ম্যাচ সেরা: ক্রিস্টি গর্ডন