সুকুমার রায় কিন্তু বাদুড়ের মুখে অনেক আগেই শব্দ বসিয়ে দিয়েছেন। তাঁর এক কবিতায় তিনি বাদুড়কে দিয়ে বলিয়েছেন, ‘ওরে ও ভাই সজারু, আজকে রাতে দেখবে একটা মজারু।’ বাদুড় সম্পর্কে সবারই জানা, বাদুড় চোখে দেখতে পায় না। ওরা মুখ দিয়ে তীব্র শব্দ করে বুঝে নেয় সামনে কোনো দেওয়াল বা বাধা আছে কি না। শব্দ করার বিষয়টা ১০০ শতাংশ সত্যি। নির্গত আওয়াজের প্রতিধ্বনি বুঝে বাদুড়রা দিক চিনে নেয়। এই ব্যাপারটিকে বলা হয় অ্যাকোলোকেশন। অনেকের কাছে বাদুড় সাক্ষাত্ বিভীষিকা, কিন্তু তারা চোখে দেখতে পায় না। এই ধারণাটি চলে আসছে, তা কি সত্যি? গবেষণা বলছে, তেমনটা নয়। বাদুড়ের দৃষ্টিশক্তি যথেষ্ট তীক্ষ। কখনো কখনো শিকার ধরার সময় বা খাবারের সন্ধানে তারা মোটেই শব্দতরঙ্গর সাহায্য নেয় না। বরং বাদুড় তার নিজস্ব দৃষ্টিশক্তিই কাজে লাগায়। বাদুড়ের কোনো কোনো প্রজাতি অতিবেগুনি রশ্মিও ঠাহর করতে পারে, যা কি না মানুষেরও অসাধ্য। এদিকে সত্যজিত্ রায় কল্পনা করেছিলেন, ‘মানুষই হয়ে যাচ্ছে রক্তখেকো ভয়াবহ বাদুড়।’ অন্ধ বাদুড়ের ঘটনাটিও সে রকমই কল্পনা।
লিয়াকত হোসেন খোকন