করোনা মোকাবিলায় এনজিওদের সমন্বয়ে দরকার জাতীয় কাঠামো

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরমের সুপারিশ

ইত্তেফাক রিপোর্ট

করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানসমূহ দেশ জুড়ে প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সহযোগিতায় কাজ করে যাচ্ছে। বেসরকারি খাতের এ সব অবদানের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং সমন্বয় সাধনের জন্য একটি জাতীয় কাঠামো প্রণয়ন করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরম, বাংলাদেশ। দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান সরকারি ত্রাণ কার্যক্রমের কার্যকারিতা বৃদ্ধি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহকে যুক্ত করা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করা হয়। গতকাল শনিবার এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরম, বাংলাদেশ-এর আয়োজনে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানসমূহের তত্পরতার কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সরকারের প্রতি সুপারিশ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ সব সুপারিশ তুলে ধরেন প্ল্যাটফরমের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

তিনি বলেন, এ মহামারির ফলে দেশের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়ন কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। এসডিজি বাস্তবায়নের গতি অব্যাহত রাখতে সরকার একটি এসডিজি ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করতে পারে। চলমান অর্থনৈতিক স্থবিরতার কারণে যে সব বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ঝুঁকির মুখে পড়বে তারা এ ট্রাস্ট ফান্ডের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারবে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, মহামারির ফলে সৃষ্ট লকডাউন পরিস্থিতিতে দেশের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। কর্মহীনতা-আয়হীনতার কারণে খাদ্যাভাব ও পুষ্টিহীনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তি এবং জঙ্গিবাদে জাড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। লকডাউন পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এ জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত সহযোগিতা নিশ্চিতকরণে সরকারকে এখন থেকেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দেশব্যাপী খাদ্য সংকট সৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে হলে সার্বিক খাদ্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। সরকারিভাবে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য ক্রয় ও পরিবহনের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে একটি সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গঠন করা যেতে পারে। এতে করে কৃষকও উপকৃত হবেন এবং ভোক্তা পর্যায়ে খাদ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে আশা করা যায়।

তিনি আরো বলেন, লকডাউনের ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী নির্যাতন ও পারিবারিক সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব সমস্যা রোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করা প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া ও বাল্যবিবাহ রোধে গণমাধ্যম ও প্রযুক্তির ব্যবহার করে সচেতনতামূলক প্রচারণা কার্যক্রমের মাধ্যমে এ সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। এক্ষেত্রে স্থানীয় কমিউনিটি রেডিওগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নাগরিক প্ল্যাটফরমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ৪০টি সহযোগী সংস্থা করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক প্ল্যাটফরমের কোর গ্রুপ সদস্য এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী এবং সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।