বাজারে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে কয়েক পক্ষের মহড়া

সাভারে উত্তেজনা-সংঘর্ষের আশঙ্কা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

করোনার আতঙ্কের মধ্যেও সাভার পৌরসভা ভবনের সামনে অবস্থিত অননুমোদিত গেন্ডা কাঁচাবাজারের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে শক্তির মহড়া প্রদর্শন করেছে কয়েকটি গ্রুপ। বাজারের চাঁদাবাজিসহ বাজার এলাকা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গতকাল শনিবার সকাল থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গেন্ডা বাসস্ট্যান্ডে এ মহড়া দেওয়া হয়। এতে যে কোনো সময় ঐ বাজারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

জানা গেছে, প্রতি বছর বাজারটি ইজারা প্রদান করা হলেও এ বছর পৌর কর্তৃপক্ষ ইজারার দরপত্র আহ্বান করেনি। ফলে ৩০ চৈত্র পূর্বের বছরের ইজারার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু বাজারটি বন্ধ না হওয়ায় বেশ কয়েকটি গ্রুপ এই বাজার নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকটি গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। একই সঙ্গে গেন্ডা বাসস্ট্যান্ডে কুলি স্ট্যান্ডের নামে চলাচলরত বিভিন্ন যানবাহন থেকে পৌরসভা কর্তৃক ইজারা চুক্তি ভঙ্গ করে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে।

সাভার পৌরসভার সূত্রে জানা গেছে, বাংলা ১৪২৭ সনের ১ বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত সাভার পৌরসভা-সংলগ্ন কাঁচাবাজার (গেন্ডা বাজার) ইজারা প্রদান বন্ধ রয়েছে। কিন্তু অনুমোদিত ইজারাদার না থাকলেও বাজারটি রহস্যজনক কারণে চালু রয়েছে। আর বাজারকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন শত শত পণ্যবাহী যানবাহন ও লোকজন আসা-যাওয়া করার কারণে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিও রয়েছে। পৌরসভা কর্তৃক কুলি-স্ট্যান্ডের এক চুক্তিপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, রিকশা, অটোরিকশা, ইজিবাইক বা এজাতীয় কোনো যানবাহন থেকে টোল আদায় করা যাবে না। কিন্তু কয়েক দিন যাবত্ কতিপয় যুবক লাঠি হাতে রিকশা, অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে ‘কুলিভিটের’ নামে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছে। এমনকি ব্যক্তিগত যানবাহনেও চাঁদা দাবি ও আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আর এই চাঁদাবাজ নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে গতকাল সকালে ঐ এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এ এফ এম সায়েদ জানান, যেহেতু বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারভুক্ত, তাই পৌর মেয়রের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সাভার পৌরসভার মেয়র মো. আব্দুল গণি বলেন, পৌরসভা-সংলগ্ন বাজারটি কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। বাজারটি ভেঙে দেওয়া হবে। বিষয়টি সাভার থানাকেও অবহিত করা হয়েছে। চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে কুলি স্ট্যান্ড থেকে চাঁদা আদায় করা হলে তা-ও অবৈধ হবে।