কঠোর নজরদারিতে ৩৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্প

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন পর্যটন নগরী কক্সবাজার। লকডাউনের আওতায় রয়েছে উখিয়া-টেকনাফের ৩৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পও। ফলে রোহিঙ্গাদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা অবলম্বন করছে প্রশাসন। ক্যাম্পে খাদ্য ও চিকিত্সা এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সেবার বাইরে সব কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। জরুরি সেবা কার্যক্রমে নির্দিষ্ট কর্মী ছাড়া দেশি-বিদেশি সকলের ক্যাম্পে যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এর পরও ঘনবসতির রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সম্ভাব্য সংক্রমণ ও পরবর্তী চিকিত্সা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ক্যাম্পের হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশনের জন্য তৈরি করা হয়েছে ৩০০ শয্যা। এ সংখ্যা ১ হাজারে উন্নীত করতে ক্যাম্পে আরো ৬টি স্থানে ৭০০ শয্যা তৈরির কার্যক্রম চলছে। ২৮০ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল কোরের ৩৬ সদস্য ডব্লিউএইচওর তত্ত্বাবধায়নে আইপিসির ওপর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বলেও জানিয়েছে আইএসসিজি।

লকডাউন ঘোষণার পর থেকে কক্সবাজারে সেনা-নৌ-র্যাব-পুলিশের ব্যাপক তত্পরতা ও সচেতনতার ফলে রোহিঙ্গাদের চলাচল সীমিত রয়েছে। মানবিক সেবা কার্যক্রমে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে ক্যাম্পে হাইজিন প্রমোশন। করোনা ভাইরাস সম্পর্কে রোহিঙ্গাদের সচেতন করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনাগুলো মিয়ানমারের এবং ইংরেজি ভাষায় প্রচার অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও হাইজিন প্রমোটাররা সচেতন করার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

কুতুপালং মধুরছরা ক্যাম্পের সালামত খান বলেন, ‘করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ঘর থেকে বাইরে না যাওয়া, সাবান দিয়ে হাত-মুখ ধোয়াসহ পরিচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি কারো সঙ্গে না মিশতে বলা হয়েছে। আমরা তা মেনে চলার চেষ্টা করছি অন্যদেরও করাচ্ছি।’ কুতুপালং লম্বাশিয়ার আমির আলী বলেন, ‘শুরুর দিকে মাস্ক পরতে অস্বস্তি লাগত। এখন অভ্যাস হয়ে গেছে। ত্রাণ আনতে বা অন্য কোনো জরুরি কাজে ঘর থেকে বের হলে মাস্ক পরে যাই।’ বালুখালী ক্যাম্পের শামসুল আলম জানান, একটু পরপর বিজিবি-পুলিশ-আর্মির গাড়ি আসে। বিনা কারণে আমরা ঘর থেকে বের হই না।’ ইন্টার সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপের (আইএসসিজি) মুখপাত্র সৈকত বিশ্বাস বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শুধু অতি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে। ব্যাপক প্রচারণার কারণে রোহিঙ্গাদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। রোহিঙ্গারা অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না।’

শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা (আরআরআরসি) মো. মাহবুব আলম তালুকদার জানান, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত বিদেশিদের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাওয়া-আসা নিষিদ্ধ রয়েছে।’