মন্ত্রীর গানম্যানের ফাঁসি দাবি, নিহতের বাড়িতে মাতম

আধিপত্য বিস্তার ও মাদক ব্যবসার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও গাজীপুর-১ আসনের এমপি আ ক ম মোজাম্মেল হকের গানম্যানের গুলিতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আজগানা গ্রামের সবুর উদ্দিনের ছেলে মো. শহিদ (৩০) নিহত হওয়ার ঘটনায় কান্না থামছে না তার পরিবারে। পুরো এলাকা জুড়ে বইছে শোকের মাতম। শহিদের পরিবার ও এলাকাবাসী ঘাতকের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। ঐ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ একই গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে মো. মহিম উদ্দিনকে (৩২) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থাও অবনতির দিকে বলে জানা গেছে।

মির্জাপুর ও  কালিয়াকৈর উপজেলার সীমান্তবর্তী কুতুবদিয়া এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। র্যাব, ডিবি ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে গত শুক্রবার ঘাতক এএসআই কিশোর চন্দ্র সরকারকে (৩৫)  আশুলিয়া থানার শিমুলিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে। কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন মজুমদার বলেছেন, কিশোরকে গ্রেফতারের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

এদিকে শহিদের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বিকালে বাড়িতে এসে পৌঁছালে স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় চারপাশের বাতাস ভারি হয়ে আসে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। শহিদের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, কন্যা সুবর্না আক্তার, চাচা আব্দুল হক ও বৃদ্ধা মা মাজেদা বেগম মন্ত্রীর গানম্যান ঘাতক কিশোর কুমারের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। একই দাবি জানিয়েছে আজগানা গ্রামবাসী। প্রসঙ্গত, মন্ত্রীর গানম্যান এএসআই কিশোর কুমার কালিয়াকৈর উপজেলার কুতুবদিয়া গ্রামের নারায়ণ চন্দ্র কুমারের ছেলে।

এ ব্যাপারে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, গানম্যান কিশোর যে অপরাধ করেছে সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। তিন/চার দিন আগে সে ছুটিতে বাড়ি গিয়েছিল। কেন সে সরকারি পিস্তল জমা না দিয়ে বাড়ি নিয়ে গেল এটা তার বড়ো অপরাধ। তদন্ত সাপেক্ষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার কঠোর বিচার করবে এটাই তার আশা। পাশাপাশি যিনি নিহত হয়েছেন তার পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মুক্তি মাহমুদ বলেন, নিহত শহিদের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মন্ত্রীর গানম্যান কিশোরকে পিস্তল ও গুলিসহ শুক্রবার দুপুরে গ্রেফতার করে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার মূল রহস্য কী, তদন্ত ছাড়া বলা যাবে না ।