জাহাঙ্গীর আলম সরদার, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
কুড়িগ্রামের উলিপুরে করোনা ভাইরাসের কারণে বাজারে মন্দাভাব থাকায় টম্যাটো নিয়ে বিপাকে প্রান্তিক চাষিরা। দ্রুত পচনশীল হওয়ায় টম্যাটো কোনো ব্যবসায়ী কিনে মজুত করতে চান না। এ অবস্থায় খেতের টম্যাটো খেতেই পচে যাচ্ছে। ফলে লোকসানের মুখে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে চাষিরা।
সরেজমিনে রবিবার সকালে উপজেলার পাণ্ডুল ইউনিয়নের আপুয়ার খাতা মণ্ডলপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, খেতের টম্যাটো খেতেই পচে যাচ্ছে। খেত জুড়ে কয়েকটি ছাগল ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ সময় কথা হয়, ঐ গ্রামের টম্যাটোচাষি ছয়ফুল ইসলামরে সঙ্গে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার উলিপুর বাজারের আড়তে ৮৫ কেজি ওজনের আট বস্তা টম্যাটো নিয়ে গিয়েছিলেন। এক বস্তা ১২০ টাকায় বিক্রি করে বাকি সাত বস্তা ফেলে দিয়ে এসেছেন। ৯০ শতক জমিতে এবার টম্যাটো চাষ করেছিলেন। ফলনও ভালো হয়েছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ৪০-৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বিক্রি করেছেন ১৫-১৬ হাজার টাকার মতো। বাকি টম্যাটো জমিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তুলেও বা কী করবেন। বর্তমানে বাজারে নিয়ে গেলে পাইকাররা নিতে চায় না। ঐ গ্রামের রায়হানুল ইসলাম বাবু বলেন, ২০ শতক জমিতে প্রতি বছরের মতো এবারও টমেটো চাষ করেছিলেন। কিন্তু এবার খরচের টাকাও উঠল না।
এছাড়া ঐ গ্রামের নূর ইসলাম, ওমর, খালেক, আব্দুল কাদের, মিজানুর নামের চাষিরাও টম্যাটো চাষ করে লোকসানের মুখে পড়েছেন। উত্পাদন খরচ তুলতে না পারায় হতাশ এসব কৃষক। খুচরাপর্যায়ে টম্যাটোর কেজি আট থেকে ১০ টাকা হলেও প্রান্তিকপর্যায়ের চাষিরা সে মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে লোকসানের মুখে পড়েছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে। আগামীতে কৃষি প্রণোদনার আওতায় আনা হবে।