কমল কান্ত রায়, গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা
করোনার কারণে দরপতনে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় লোকসান গুণছেন কুমড়াচাষিরা। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কৃষকেরা লাভের কুমড়া চাষ করেছেন তিস্তার চরাঞ্চলে। চিকচিক বালুতে লিক লিক করে বেড়ে উঠছে কুমড়াগাছের ডগাগুলো। ফুলে-ফলে ছেয়ে গেছে কুমড়াখেত।
উপজেলার সাত ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় শুষ্ক মৌসুমে বালু আর বালু। একসময় তিস্তার চরে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো কাশিয়ার জায়গা দখল করে নিয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফসল। তিস্তার বালুচরে এখন ধান, পাট, গম, সরিষা, পেঁয়াজ, মরিচ, আলু, কুমড়া, লাউ, তরমুজ, বাদামসহ বিভিন্ন ফসল ফলে। যেন সোনা ফলে বালুতে।
সরেজমিন তিস্তার ছালাপাক চর, রাজভল্লব, ধামুর, মহিপুর, শংকরদহ, কোলকোন্দ চরসহ বিভিন্ন চরে দেখা যায়, ওপর থেকে তিন থেকে চার ফুট গভীরে গর্ত খুঁড়ে কুমড়া লাগানো হয়েছে। লিক লিক করে বেড়ে উঠছে কুমড়ার ডগাগুলো। কুমড়া বিক্রি শুরু করেছে। উপজেলার ছালাপাক চরের তাজ উদ্দিন এ বছর চরে সাড়ে সাত একর জমিতে কুমড়া চাষ করেছেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে। তার ভাই তাইফুল ২ একর, সুজন ২ একর, বেলাল ১ একর, তারা মিয়া ২ একরসহ অনেকে এ বছর কুমড়া লাগিয়েছেন। চারদিকে কুমড়া আর কুমড়া। প্রথম দিকে কুমড়ার দাম পেলেও করোনা ভাইরাসের কারণে চাহিদা কমে যাওয়ায় কৃষকেরা লোকসান দিয়ে কুমড়া বিক্রি করছেন। ছালাপাক এলাকার কৃষক মাধব এবার আট বিঘা জমিতে কুমড়া লাগিয়েছেন। কিন্তু দাম কমার কারণে তার লোকসান হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। বেলালের ২০ হাজার টাকা, মজলুল, লিটন ও মমিনুরের ৩০ হাজার টাকা করে লোকসান হয়েছে বলে জানান। প্রথম দিকে কুমড়া ১৩-১৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে সাড়ে ৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার চরে এখন অনেক ফসলেই আবাদ হচ্ছে। কৃষকেরা আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছেন। চরাঞ্চলে কোনো জমি এখন আর পতিত থাকে না।