রাজশাহীতে নারী, তরুণরা বদলে দিতে পারে নির্বাচনী চিত্র

রাজশাহীতে ভোটারদের বড় একটা অংশ জুড়ে রয়েছেন নারী ও তরুণরা। ফলাফল নির্ধারণে তারা বড় ভূমিকা রাখবেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। আর কয়েক প্রহর পর অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। উৎকণ্ঠা, উন্মাদনার মধ্যে এখনো হিসেবের খাতা কষছেন প্রতি প্রার্থী। নির্বাচনী প্রচারণায় নারী ও তরুণদের কাছে টানতে বেশ কৌশলী ছিল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির প্রার্থীরা।

নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, রাজশাহীর ৬টি আসনের ভোটার উনিশ লাখ বিয়াল্লিশ হাজার পাঁচশ বাষট্টি জন। এর মধ্যে নারী নয় লাখ চুয়াত্তর হাজার আটশ বায়ান্ন এবং পুরুষ নয় লাখ সাতষষ্টি হাজার সাতশ দশ জন। দশম সংসদ নির্বাচনে একই সংখ্যক আসনের ভোটার ছিল সতের লাখ বিয়াল্লিশ হাজার ছয়শ সাতান্ন জন। এবার নতুন ভোটার যুক্ত প্রায় দুই লাখ।

প্রচারণায় দেখা গেছে, নারী ও তরুণ ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণে নারী ও তারুণ্যবান্ধব নানা পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে সরব ছিলেন প্রার্থীরা। নারী ও তরুণ প্রচারকর্মী ছাড়া দুই জোটের প্রার্থীদের স্ত্রী ও সন্তানরা সরব ছিলেন ভোটের প্রচারণায়। নির্বাচনী প্রচারণায় সরব ছিলেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। তরুণদের বিচরণক্ষেত্র ভার্চুয়াল জগতে প্রচারণার কমতি রাখেননি নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থীরা।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের বিভাগীয় সমন্বয়কারী সুব্রত পাল বলেন, ৬টি আসনের চারটিতেই নারী ভোটার বেশি। এছাড়া বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে নারীদের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। ফলে নারী ভোটাররা এবার প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া বিপুল সংখ্যক তরুণ ভোটারা বদলে দিতে পারেন ভোটের সার্বিক চিত্র।

রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের মোট ভোটার তিন লাখ তিরাশি হাজার তিনশ বায়ান্ন জন। এর মধ্যে নারী এক লাখ বিরানব্বই হাজার সাতশ তেইশ ও পুরুষ ভোটার এক লাখ নব্বই হাজার ছয়শ উনিশ জন। রাজশাহী-২ (সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ড) আসনে ভোটার তিন লাখ সতের হাজার আটশ বায়ান্ন জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ পঞ্চান্ন হাজার নয়শ সাত জন। এ আসনে পুরুষের চেয়ে নারী ভোটার ছয় হাজার আটত্রিশ জন বেশি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা পেয়েছিলেন এক লাখ ষোল হাজার পাঁচশ নিরানব্বই ভোট। আর চারদলীয় জোটের প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু পেয়েছিলেন উননব্বই হাজার পঞ্চাশ ভোট। এবারও দুইজোটের প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ আসনে ভোটের ফলাফলকে নারী ও তরুণ ভোটাররা নির্ধারণ করতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ গ্রামেগঞ্জে নির্বাচনী উৎসব শুরু হয়েছে: নাসিম

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে নারী এক লাখ আটাত্তর হাজার নয়শ চল্লিশ ও পুরুষ ভোটার এক লাখ আটাত্তর হাজার চারশ পঁয়ত্রিশ জন। রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা দুই লাখ ছিয়াত্তর হাজার আট জন। এর মধ্যে নারী এক লাখ উনচল্লিশ হাজার দুইশ সাতানব্বই ও পুরুষ ভোটার এক লাখ আটত্রিশ হাজার সাতশ এগারো জন। রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে মোট ভোটার তিন লাখ এক হাজার সাতশ আটাত্তর জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ একান্ন হাজার পাঁচশ পঁচিশ জন ও নারী ভোটার এক লাখ পঞ্চাশ হাজার দুইশ তেপান্ন জন। রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনে মোট ভোটার লাখ লাখ চার হাজার বারো জন। এর মধ্যে নারী ভোটার এক লাখ একান্ন হাজার সাতশ বাহাত্তর জন ও পুরুষ ভোটার এক লাখ বাহান্ন হাজার দুইশ চল্লিশ জন।

ইত্তেফাক/অনি/নূহু