পূবাইলে গরু চোরের উপদ্রব স্থানীয়রা দিশেহারা

গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলের গ্রামে প্রায় প্রতি রাতেই গরু চুরির ঘটনা ঘটছে। চোর ধরতে গিয়ে আক্রমণের শিকার হয়েছেন এক গৃহকর্তা। মহানগরীর কুদাব ও চামুড্ডা গ্রামের তিনটি বাড়ি থেকে গত তিন দিনে আটটি গরু চুরি হয়েছে। এতে স্থানীয়রা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

গত ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে গাজীপুর মহানগরের পূবাইল এলাকার কুদাব গ্রামের মৃত আমিজ উদ্দিন কাজীর ছেলে আব্দুল বাতেন কাজীর গোয়াল থেকে পাঁচটি গরু চুরি হয়ে যায়।

গৃহকর্তা বাতেন কাজী জানিয়েছেন, প্রতিদিনের মতো সন্ধ্যায় নিজ ঘরের পাশে গোয়ালে তিনটি গাভী ও দুটি বাছুর গরু বেঁধে রেখে দরজা আটকিয়ে পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে চোর দরজা ভেঙে গোয়ালে প্রবেশ করে। দরজা ভাঙার শব্দ শুনে তিনি এগিয়ে গেলে চোররা লোহার রড দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে ঘরে আটকে রাখে। এ সময় পাশের রাস্তায় থাকা ট্রাকে ঐ পাঁচটি গরু উঠিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। গত ১৬ এপ্রিল চামুড্ডা গ্রামের মৃত কেতু মিয়ার ছেলে মুল্লুকের গোয়াল থেকে একটি, একই গ্রামের মৃত মফিজুল ইসলামের স্ত্রী আমেনা বেগমের গোয়াল থেকে দুটিসহ মোট আটটি গরু চুরি হয়েছে গত তিন দিনে।

সম্প্রতি পদ হারবাইদ এলাকার ভুঁইয়া বাড়ির বাবলু ভুঁইয়ার তিনটি, করমতলা এলাকার মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে স্বপন মিয়ার দুটি, একই এলাকার মৃত সের আলীর ছেলে সহর আলীর দুটি গরু গোয়াল থেকে চুরি হয়েছে। এছাড়া ইছালি, ডেমর পাড়া, বিল্লাসারা, ভাদুন, খিলগাঁও, বিন্দান, মারুকা, হায়দরাবাদ ও মেঘডুবিসহ পূবাইলের সর্বত্র গরু চুরির ঘটনায় অনেকে বিপাকে পড়েছেন।  কুদাব গ্রামের বাতেন কাজী ও পদ-হারবাইদ গ্রামের বাবলু ভুঁইয়ার গরু চুরির ঘটনায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পূবাইল থানায় মামলা হয়েছে। পূবাইলের কৃষকেরা রাতে স্থানীয় পুলিশের নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে পূবাইল থানার ওসি নাজমুল হক জানান, এলাকার গরু চুরি রোধ করতে পুলিশি টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। গরু চুরির ঘটনাগুলো পুলিশ তদন্ত করছে।