ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে লকডাউনের মধ্যেই মাওলানা জুবায়ের আহমেদ আনসারীর জানাজায় লাখো মানুষ জমায়েত হওয়ার ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার দুই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং এএসপি সার্কেলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশ সদরদপ্তরের আদেশে তাদের প্রত্যাহার করা হয়। প্রত্যাহার করে নেওয়া কর্মকর্তারা হলেন সরাইল থানার সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) মাসুদ রানা, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহাদাত্ হোসেন টিটু এবং ওসি (তদন্ত) নূরুল হক। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, শনিবারের ঘটনা তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম রেঞ্জের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি ইকবাল হোসেনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাতটি গ্রামকে লকডাউন করা হয়েছে। এসব গ্রামের বাসিন্দাদের ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে ব্যাপক প্রচারণাও চালানো হয়েছে। তবে লকডাউনে থাকা বাসিন্দাদের দাবি প্রশাসনের এই নির্দেশনা তারা জানেন না। রবিবার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে পুলিশ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। বিভিন্ন স্থান থেকে আগত যাত্রীরা বাধাপ্রাপ্ত হয়ে পায়ে হেঁটে পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জ, মাধবপুর, ভৈরব ও নরসিংদীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এছাড়া শহরে গত ১১ এপ্রিল থেকে লকডাউন শুরু হলেও গতকাল রবিবার শহরে যানবাহন এবং জনসাধারণের চলাচল অনেকটাই বেড়ে যায়।
লকডাউন উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ সভা
লকডাউন উপেক্ষা করে গতকাল দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য এবাদুল করিম বুলবুলকে নিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর লেখালেখির প্রতিবাদে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত শনিবার রাতেও বীরগাঁও বাজারে এমপি বুলবুলের অনুসারীরা ফেসবুকে কটাক্ষকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে। লকডাউন উপেক্ষা করে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের শত শত নেতাকর্মী আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এসে এক সভায় মিলিত হন। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির। সভায় বক্তারা ফেসবুকে এমপি বুলবুলকে নিয়ে কটাক্ষকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।
জানা যায়, উপজেলা থানাকান্দিতে মোবারক নামে একজনের পা কেটে ফেলা এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে মোবারকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় পাশের বীরগাঁও ইউপির চেয়ারম্যান কবির আহমেদকে প্রধান আসামি করা হয়। আর এই মামলা দায়েরের পেছনে এমপি বুলবুলের হস্তক্ষেপ রয়েছে উল্লেখ করে কবির চেয়ারম্যান ও তার অনুসারীরা ফেসবুকে এমপি এবাদু্ল করিম বুলবুলের ছবি দিয়ে নোংরা ভাষায় নানাভাবে পোস্ট দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।