বিপুল ক্ষতির মুখে গাড়ির ব্যবসায়ীরা

প্রণোদনা চেয়ে অর্থমন্ত্রীকে বারভিডার চিঠি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ায় অন্যান্য ব্যবসায়ের মতো বিপুল ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশের গাড়ির ব্যবসা। গাড়ির চাহিদা প্রায় শূন্যে নেমে যাওয়ায় আমদানি হওয়া বিপুলসংখ্যক গাড়ি এখন বন্দর থেকেও খালাস হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে একদিকে বন্দর চার্জ বাড়ছে, অন্যদিকে নিলামের খড়্গও ঝুলছে। আবার ব্যাংকের দেনার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়েও দিশেহারা ব্যবসায়ীরা। এ খাতের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এ পরিস্থিতি কবে ঠিক হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা তথা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ছন্দে ফিরে না আসায় ধীরে ধীরে মুখ থুবড়ে পড়তে যাচ্ছে গাড়ির ব্যবসা। ফলে এ খাতের হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগকারীরা এখন চিন্তিত। অন্যদিকে গাড়ি বিক্রি বন্ধ থাকায় সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে উদ্যোগ নেওয়া তথা আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডা (বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যাল ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন)। চিঠিতে বলা হয়, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্যান্য বাণিজ্যিক খাতের মতো রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি ও বিপণন কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকায় এ খাতের ব্যবসায়ীরা চরম অর্থনৈতিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারকদের বিপুল আর্থিক ক্ষতি থেকে কিছুটা রক্ষা পেতে মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে বিদেশ থেকে আমদানি করা গাড়ির বন্দর চার্জ আগামী ডিসেম্বর মওকুফ করার দাবি জানানো হয়। এছাড়া শুল্ক বিভাগ কর্তৃক বন্দরে গাড়ির নিলাম কার্যক্রম আগামী মাস পর্যন্ত বন্ধ রাখা, ঋণখেলাপি হওয়া থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণের কিস্তি প্রদানের সুবিধা আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো, আর্থিক ক্ষতি সামলে নিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বার্ষিক বিক্রির (টার্নওভার) ভিত্তিতে স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়া, শিল্প ও ব্যবসায়ে কর্মীদের বেতন প্রদান নিশ্চিত করতে আর্থিক প্রণোদনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বিদ্যুত্, গ্যাস, পানি ও অন্যান্য সেবা খাতের বিল আগামী জুন পর্যন্ত স্থগিত রাখা এবং প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় সুনির্দিষ্ট আর্থিক ও নীতিসহায়তা অব্যাহত রাখারও দাবি জানানো হয়।

বারভিডার মহাসচিব মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, আমদানিকৃত বিপুলসংখ্যক গাড়ি বর্তমানে বন্দরে আটকা পড়ে আছে। গাড়ি বিক্রি না হওয়ায় এসব বন্দরের ইয়ার্ডেই পড়ে আছে এসব গাড়ি। প্রতিদিনই বিপুল অঙ্কের লোকসান গুনছেন আমদানিকারকরা। এসব কারণে সরকারও প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের সহায়তা প্রয়োজন।