ত্রাণ বিতরণে ছবি তোলা প্রাধান্য পাচ্ছে

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে কর্মহীন হয়ে পড়া দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে ছবি তোলা প্রাধান্য পাচ্ছে। কে ত্রাণ পেল না পেল বা কতটুকু ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে তার হিসাব না করে ত্রাণ বিতরণের ছবি তোলার দিকে ঝোঁক বেশি দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব ছবি আবার ভাইরাল হচ্ছে!

হতদরিদ্র, শ্রমিক ও নিম্নবিত্ত মানুষেরা কমবেশি সরকারি সহায়তা পাচ্ছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মানুষের পাশে সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে ছবি তোলার হিড়িক পড়েছে। ফেসবুকে দেখা যাচ্ছে—একমগ চাল দিতে ১৪ জন, ত্রাণের প্যাকেট দিতে পাঁচ-ছয় জন মিলে ফটোসেশন করছেন। ছবি ঠিকমতো না উঠলে আবার তাকে ডেকে এনে ছবি তোলা হচ্ছে। ত্রাণ বিতরণের মোড়কে দেখা যাচ্ছে নেতা বা জনপ্রতিনিধিদের ছবি। কোথাও কোথাও নেতার ছবি সম্বলিত পোস্টার হাতে নিয়ে ত্রাণ নেওয়ার ফটোসেশনও করা হচ্ছে। অনেকে রাতের বেলা লোকের বাড়িতে গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দিলেও ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করতে ভুল করছেন না।

কোথাও কোথাও গরিবের ত্রাণ চাল চুরি করে নেতা, জনপ্রতিনিধি ও ডিলাররা ধরা পড়েছেন। সরকার প্রদত্ত ত্রাণ সহায়তা গরিব ও হতদরিদ্র মানুষের অধিকার। তাদের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব। সরকারের দেওয়া ত্রাণ সুষ্ঠুভাবে বিতরণের জন্য সবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা দরকার। ত্রাণ বিতরণের ছবি না তুলে কী পরিমাণ ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে তার ছবি ও কতজনকে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে তা প্রচার  হোক। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই টানাপড়েনের মধ্যে দিন পার করছেন। তাঁদেরও ত্রাণ সহায়তার দাবি উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ ব্যাপারেও ভাবা উচিত বলে মনে করি।

প্রকাশ ঘোষ বিধান

পাইকগাছা, খুলনা