নষ্ট হয়ে যাওয়া টিভি ঠিক করে বাড়ি ফিরছিলেন শওকত আলী। মাতুয়াইলের রহমতপুরে কথা হয় তার সঙ্গে। বলেন, ‘বাসায় আটকে থাকা অবস্থায় টিভি নষ্ট হলে কি চলে!’ তাই তিনি চলে এসেছেন টিভি ঠিক করতে। আসবেন না কেন! দোকানপাট তো সবই খোলা। লকডাউন, করোনা সংক্রমণ, সামাজিক দূরত্ব এসব শুধু কথার কথা হয়ে রয়ে গেছে রাজধানীর অলিগলির জীবনযাত্রায়। সেখানে প্রতিদিন নিয়ম মেনেই দোকানপাট খুলছে। খুলছে টেইলার্স, কাপড়ের দোকান, মোবাইল-টিভি রিপেয়ারিংয়ের দোকান। গয়না গড়ানোর ইচ্ছা থাকলে, সম্ভব তাও। সেলুনে চলছে চুল কাটা। আরো খুলেছে হার্ডওয়ার, টিভি, ফ্রিজ বিক্রির দোকান। আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না, তাহলে সকাল সকাল ঘুরে আসতে পারেন ডেমরার কোনাপাড়া, মাতুয়াইলের রহমতপুর, ট্যানারির মোড়, রায়েরবাজার, মোহাম্মদপুরের নামা অঞ্চল। আরো ঘুরে আসতে পারেন কল্যাণপুরের নতুন বাজার এলাকা, মিরপুর, শ্যাওড়াপাড়ার ভিতরের গলি, বনশ্রী আবাসিক এলাকার ভেতরে।
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে যদি কেউ যান তিনি বিশ্বাস করবেন হ্যাঁ, সবাই লকডাউন মানছে। সেখানে খুব কড়াকড়ি। প্রতিটি গাড়ি ও পথচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সদুত্তর না পেলে করা হচ্ছে জরিমানা। কিন্তু সেখান থেকে এক কিলোমিটার দূরে জাফরাবাদ এলাকায় গেলে মনেই হবে না দেশে কোনো করোনা সংক্রমণ ঘটেছে। সবাই দিব্যি বাসা থেকে বেরিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে রাস্তার চায়ের টংয়ে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছেন। যেহেতু সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি প্রয়োজনীয় দোকান খোলা রাখার কথা বলা হয়েছে। সেই সুযোগে সব দোকানপাটই খুলছে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত।
গত দুই দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল প্রধানত মূল সড়কগুলোতে। তাই সেখানে মানুষের চলাচল কম। দোকানপাটও বন্ধ। অথচ শহরতলির দোকানপাট খুলছে প্রতিদিন। কোনো রকম নিয়ন্ত্রণ নেই। মানুষের চলাচল স্বাভাবিক অন্য যে কোনো সময়ের মতোই। এসব আড্ডায় আলোচনার মূল বিষয় কিন্তু করোনা সংক্রমণ। সরকারের কি করা উচিত আর কি করা উচিত নয় এসব নিয়ে যুক্তির অভাব নেই। শুধু প্রতিটি নাগরিকের যে দায়িত্বটা পালন করা প্রয়োজন সেই ‘ঘরে থাকা’টাই মানছেন না তারা।
দেশের করোনা সংক্রমিত এলাকাগুলোর মধ্যে রাজধানী ঢাকা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। সেজন্য ওষুধের দোকান, সবজি ও মাছ মাংসের দোকান ছাড়া অন্য সব দোকান বন্ধ রাখতে আদেশ দেওয়া হয়েছে। অথচ সরকারের সেই আদেশ মানা হচ্ছে না। মানুষজনও ঘরে না থেকে বাইরে বের হচ্ছেন হরহামেশাই। মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, শাস্তি দিয়ে, জরিমানা করে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে কিন্তু মানুষ নিজে যদি নিজের ভালো না বোঝেন তাহলে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। দেশের প্রতিটি রাস্তা ও গলিতে তো পাহারা বসানো সম্ভব নয়। মানুষের সচেতনতাই এ সমস্যার সমাধান করতে পারে। রায়েরবাজারের সাদেক খান সড়কের ‘মা-বাবার দোয়া ক্রোকারিজে’ বেশ ভিড়। দোকান খোলা মানা তারপরেও কেন খুলেছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে বিক্রেতা বলেন, সবাই খুলেছে তাই আমিও খুললাম।
দোকান খোলার যেমন নিয়ম নেই। তেমনি কেউ নিয়ম মানছে না সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রেও। বিভিন্ন সুপার শপে, টিসিবির পণ্য কেনার সময় তা একেবারেই মানা হচ্ছে না। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) উদ্যোগে খোলাবাজারে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে ঐ নির্দেশনা পুরোপুরিই উপেক্ষিত হতে দেখা গেছে।