বাগেরহাট সদর হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্স মিনারা খানমকে (৩৫) পিটিয়ে জখম ও নার্সদের রুম ভাঙচুর করেছে। রবিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনার পর সোমবার সকাল থেকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালের নার্সরা জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন। আহত সিনিয়র স্টাফ নার্স বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিত্সা নিচ্ছেন। এ ঘটনায় সিভিল সার্জনের নির্দেশে আহত মিনারা বাদী হয়ে বাগেরহাট মডেল থানায় মামলা দায়েরের পর একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বাগেরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. বেলফার হোসেন জানান, রবিবার সন্ধ্যায় বাগেরহাট শহরের বণিকপট্টি এলাকার মনিমোহন পালের স্ত্রী নমিতা পালকে (৭২) মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার স্বজনেরা। জরুরি বিভাগ থেকে ওয়ার্ডে পাঠালে রোগীর স্বজনেরা তাকে কেবিনে নেওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করতে থাকে। রোগীর অবস্থা খারাপ থাকায় নার্সরা তাকে অক্সিজেন দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এই অবস্থায় ওয়ার্ড থেকে রোগীর স্বজনেরা তাকে কেবিনে নিয়ে গেলে অল্প সময়ের মধ্যে রোগী মারা যায়। ‘কেন রোগীকে আগে কেবিনে নেওয়া হয়নি’— বলে মৃত রোগীর তিন ছেলে কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স মিনারাকে কিল ঘুসি লাথি চড় মারতে থাকে। মিনারা তাদের হাত থেকে বাঁচতে দ্রুত ওয়াশ রুমে ঢুকে পড়লে সেখান থেকে তাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে আবারও মেরে রক্তাক্ত জখম করে তারা এবং ভাঙচুর করে নার্সদের রুমের দরজা-জানালা। এ ঘটনার পর সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ুন কবিরের নির্দেশে মিনারা খানম বাদী হয়ে মৃত রোগীর তিন ছেলেকে আসামি করে বাগেরহাট মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
বাগেরহাট সদর হাসপাতালের ক্ষুব্ধ নার্সরা বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িত সব আসামিকে গ্রেফতার করা না হলে কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন তারা। বাগেরহাট মডেল থানার ওসি মো. মাহতাব উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় মৃত রোগীর ছেলে মানষ পালকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।