রাজধানীতে পৃথক দুটি অভিযানে অবৈধভাবে মজুত করা বিপুল পরিমাণ করোনা ভাইরাস পরীক্ষার কিট উদ্ধার করেছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে রাজধানীর রাজারবাগের শহীদবাগ ও খিলক্ষেত থানাধীন নিকুঞ্জ-২ এলাকায় এ অভিযান শুরু হয়। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান ও সহকারী পরিচালক হারুন-উর-রশিদের উপস্থিতিতে র্যাব-৩-এর ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসাক উক্ত আদালত পরিচালনা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সিনিয়র সহকারী পরিচালক সুজয় সরকার। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহজাহানপুরের শহীদবাগের ৮৯৬, জসিম ভিলায় অভিযান চালিয়ে অনুমোদন বিহীন ও নিম্নমানের ৩০০টি র্যাপিড টেস্ট কিট জব্দ করা হয়। ঐ প্রতিষ্ঠানের তিন জনকে এক বছর ৯ মাস করে কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অপরদিকে র্যাব-৩-এর এএসপি রবিউল ইসলাম জানান, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহায়তায় নিকুঞ্জ-২ এলাকার ২০ নম্বর রোডের ১০ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত ইকোয়াল গ্রুপ নামক প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালানো হয়। অনুমোদন বিহীন ও নিম্নমানের ৯০০টি করোনা শনাক্তের র্যাপিড টেস্ট কিট, ৭০০টি কেএন-৯৫ মাস্ক, ১ হাজার ৫০০ সার্জিক্যাল মাস্ক, ৫০০ প্রোটেকটিভ গ্লাভস, ২৫০টি পিপিই এবং ৫ লিটার হ্যান্ড স্যানিটাইজার উদ্ধার করা হয় প্রতিষ্ঠানটি থেকে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিনা অনুমতিতে এসব কিট ও সরঞ্জাম চীন থেকে আনা হয়েছে। এসব কিট আমদানিতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন নেই। জব্দ কিটগুলো বেসরকারি হাসপাতালে গোপনে বিক্রি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। এই অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির দুই জনকে এক বছর ৯ মাস করে কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, আইইডিসিআর ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর করোনার টেস্টিং কিট আমদানি করার অনুমতি দেয়। বিনা অনুমতি ও পরীক্ষা ছাড়াই এসব কিট চীন থেকে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আনা হয়েছে। কিটগুলো যথাযথ সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়ে দেশে আনা হয়নি। এক্ষেত্রে ঐ সব কিট দিয়ে পরীক্ষা করা হলে যদি করোনা রোগীর রিপোর্ট নেগেটিভ আসে তাহলে বিষয়টি ভয়ংকর হবে। ঐ ব্যক্তি নিজেকে করোনা মুক্ত মনে করে সমাজে ঘুরে বেড়াবে।