ফরিদপুর চিনিকলে বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের আওতাধীন ফরিদপুর চিনিকলের শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তারা তিন মাসের বেতন-ভাতা না পাওয়ার কারণে আর্থিক সংকটে ভুগছেন। মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। বেতন-ভাতা ও অন্যান্য পাওনার দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় মধুখালীতে অবস্থিত ফরিদপুর চিনিকলের প্রধান ফটকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন শ্রমজীবী ইউনিয়নের সভাপতি শাহ্ মো. হারুন অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক কাজল বসু, সহসভাপতি মনিরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিন্টু, সাবেক শ্রমিক নেতা আবুল বাশার বাদশা, শাহিন মিয়া প্রমুখ। শ্রমিক নেতারা জানান, বাকিতে নিত্যপণ্য খাওয়ায় মোটা অঙ্কের দেনা হয়েছেন শ্রমিকরা। এ অবস্থায় বাজার করতে পারছেন না তারা। এই চিনিকলে প্রায় ৮০০ শ্রমিক কর্মচারী ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল মাসের বেতন না পেয়ে আর্থিক সংকটে দিন অতিবাহিত করছেন।

জানা গেছে, ফরিদপুর চিনিকলে আখচাষিদের আখের মূল্য বাবদ প্রায় ৮ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে এবং স্থায়ী ও মৌসুমি এবং দৈনিক ভিত্তিতে (ম্যান-ডে) কর্মরতদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৫ কোটি, অবসরপ্রাপ্তদের গ্র্যাচুইটি বাবদ প্রায় ১৮ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। সবমিলে বকেয়া ৩১ কোটি টাকা। এরই মধ্যে বেতন-ভাতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। মধুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোস্তফা মনোয়ার জানান, তাদের স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। শ্রমজীবী নেতা কাজল বসু বলেন, ‘মানবতার নেত্রী ও শিল্পবান্ধব সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদন, পাওনা টাকা পরিশোধের বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।’ ফরিদপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল বারী জানান, ‘বেতন-ভাতার বিষয়ে সদর দপ্তরে জানানো হয়েছে। চিনি বিক্রি করে বেতন-ভাতা দেওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে। চিনি বিক্রি হলে খুব দ্রুতই বেতন-ভাতা ও আখের মূল্য পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে।’